হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন, কোন সন্তান পিতার স্নেহ-ভালবাসা, লালন-পালন এবং কষ্টের হক আদায় করতে বা তার বদলা দিতে সক্ষম নয়। তবে সে যদি তাঁকে কারো দাসরূপে পায়, অতপর তাঁকে খরীদ করে মুক্ত করে দেয়, তাহলে কিছু হক আদায় হয়।১
আবূ মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, একবার আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) দেখলেন, জনৈক ইয়ামেনী স্বীয় মাতাকে পিঠে বসিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করছিল এবং আবেগের সাথে এ কবিতা আবৃত্তি করছিল-
আমি তাঁর নিতান্ত অনুগত সাওয়ারী উট
যখন তাঁর সাওয়ারী ভয়ে ভাগে তখন আমি দেইনা ছুট।
অতপর সে হযরত আবদুল্লাহ (রা) কে দেখে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি মনে করেন, আমি আমার মায়ের বদলা দিয়েছি? ইবন উমার (রা) বললেন, মায়ের বদলা! এটা তো তাঁর এক আহ শব্দের বদলাও হয়নি।২
একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) এর খেদমতে হাযির হয়ে অভিযোগ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা বদ-মেজাজী মানুষ। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যখন তোমাকে গর্ভে ধারণা করে একাধারে নমাস সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন, তখন তো তিনি খারাপ মেজাযের ছিলেন না? লোকটি বলল, হযরত আমি সত্য বলছি, তিনি বদ-মেজাজী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন :তোমার খাতিরে তিনি যখন রাতের পর রাত জাগতেন, তোমাকে দুধ পান করাতেন, তখন সে তো তিনি বদ-মেজাযী ছিলেন না। লোকটি বলল, আমি আমার মায়ের সে সব কাজের প্রতিদান দিয়ে ফেলেছি। নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন : তুমি কি সত্যিই প্রতিদান দিয়ে ফেলেছো? সে বলল, আমি মাকে আমার কাঁধে চড়িয়ে হজ্জ করিয়েছি। নবী (সা) বললেন : তুমি কি তাঁর সেই কষ্টের বদলা দিতে পারো, যা তোমার ভূমিকা হওয়ার সময় তিনি সহ্য করেছেন। ৩
Post new comment