সর্বাধিক প্রিয় আমল
হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন, আল্লাহ তাআলার নিকট মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করার চাইতে অধিক প্রিয় আর কোন আমল হতে পারে তা আমার জানা নেই।
হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, কিছু দিন আবূ হুরায়রা (রা) এর মা এক বাড়ীতে এবং আবূ হুরাইরা (রা) অল্প দূরে ভিন্ন এক বাড়ীতে বসবাস করতেন। আবূ হুরাইরা (রা) যখনই বাইরে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন মায়ের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে বলতেন, ইয়া আম্মাজান! আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তাঁর মা ভিতর থেকে বলতেন,
প্রিয় পুত্র! ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া রাহমাতুল্লাহ। অতপর হযরত আবূ হুরাইরা (রা) বলতেন, আম্মাজান, শৈশবকালে যেভাবে আপনি স্নেহ ও মায়া মমতাসহকারে আমাকে লালন-পালন করেছিলেন। তেমনিভাবে যেন আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করেন। জবাবে তিনি বলতেন, প্রিয় পুত্র! এ বৃদ্ধ বয়সে তুমি আমার সাথে যেমন সুন্দর ও সদাররণ করছো তেমনি আল্লাহ ও যেন তোমার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। ১
মাতা-পিতার জন্য অর্থ ব্যয় :
যেভাবে সন্তানের ওপর মাতা-পিতার অধিকার রয়েছে তেমনিভাবে সন্তানের সম্পদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: (হে নবী) লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা কি ব্যয় করবো। আপনি তাদেরকে বলে দিন, যে মালই তোমরা ব্যয় করো না কেন? তার প্রথম হকদার হলো তোমার মাতা-পিতা। ২
এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর নিকট স্বীয় পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বললো, তিনি যখনই ইচ্ছা করেন আমার সম্পদ নিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তার পিতাকে ডাকলেন। লাঠি ভর করে এক দুর্বল বৃদ্ধ হাযির হলেন। তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। বৃদ্ধালোকটি জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এক সময় আমার এ ছেলে দুর্বল, অসহায় ও কার্পদহীন ছিল। আমি তখন ছিলাম শক্তিশালী ও বিত্তশালী ও বিত্তশালী। আমি কখনো তাকে আমার সম্পদ নিতে বাধা দেইনি। আজ আমি দুর্বল ও কাপর্দকহীন, সে শক্তিশালী ও বিত্তশালী। এখন সে তার সম্পদ আমাকে দেয় না। একথা শুনে রাসূল (সা) বললেন : তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার। ৩
মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা সম্পর্কে হাসান বসরী (রা) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন : তোমার মালিকানাধীন সম্পদ তাঁদের প্রয়োজন মাফিক ব্যয় করবে। তাঁরা যা আদেশ করেন তা যদি গুনার কাজ না হয়, তবে তা মেনে চলবে।৪
Post new comment