আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি মানুষকে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণের তাকীদ দিয়েছি। তার মা অনেক কষ্টে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং বহু কষ্ট করে ভুমিষ্ঠ করেছে। গর্ভে ধারণ করা ও দুধ পান করানোর (কঠিন কাজের সময়কাল হলো আড়াই বছর)।১
তিনি আরো বলেন : আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করেছে। আর দুধ ছড়ানো হয় দুবছরের মধ্যে। এ নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।২
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর দরবারে হাযির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা) আমার সুন্দর আচরণের সবচাইতে বেশী হকদার কে? তিনি বললেন: তোমার মা। সে জিজ্ঞেস করলো, এর পর কে? তিনি বললেন; তোমার মা। সে জিজ্ঞেস করলো, এরপর কে? তিনি বললেন: তোমার মা। সে পুনারায় জিজ্ঞেস করলো, তারপর কে? তিনি বললেন : তোমার পিতা।৩
বাহয ইবন হাকীম তাঁর পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কার সাথে সবচাইতে বেশী ভাল ব্যবহার করব? তিনি বললেন: তোমার মায়ের সাথে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন : তোমার মায়ের সাথে। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন : তারপর কার সাথে? এবারও তিনি বললেন :তোমার মায়ের সাথে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম তারপর কার সাথে? তিনি বললেন : তোমার পিতার সাথে। অত:পর পর্যায়ক্রমে নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের সাথে।৪
মিকদাম ইবন মাদিকারাবে (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের মায়েদের
সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। অর্থাৎ তাদের সাথে সদাচারণ করার আদেশ দিচ্ছেন। একথা তিনি তিনবার বললেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের পিতাদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ পর্যায়ক্রমে নিকটবর্তীদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। (সদাচারের)।১
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বললেন: তোমার মাতা-পিতা কি বেঁচে আছে? লোকটি বললো, হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন :তাদের মাঝে জিহাদ করো।২
অর্থাৎ তাদের সেবা-যত্ন ও খেদমতে আত্মনিয়োগ কর। এটাই তোমার জিহাদ।
হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের ওপর সবচাইতে বেশী অধিকার কার? তিনি বললেন, তার স্বামীর। আমি বললাম, পুরুষের ওপর সবচাইতে বেশী অধিকার কার? তিনি বললেন তার মায়ের।৩
Post new comment