মুআবিয়া ইবন জাহিমা আস সুলামী (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালীন নাজাত লাভের উদ্দেশ্যে আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বললেন : আফসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে আছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন যাও, তার খেদমতে আত্মনিয়োগ
করো। এরপর আমি অন্যদিক থেকে এসে আরয করলাম, হে আল্লাহ রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তির আশায় আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বললেন: আফসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন ; যাও তাঁর সেবা করো। অতপর আমি তাঁর সামনের দিক দিয়ে এস বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সফলতা লাভের আশায় আপনার সাথে জিহাদে শামিল হতে চাই। তিনি বললেন; হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন; যাও তাঁর সেবা করো। অতপর আমি তাঁর সামনের দিক দিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সাফলতা লাভের আশায় আপনার সাথে জিহাদে শামিল হতে চাই। তিনি বললেন; আফোসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে নেই? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি আমাকে বললেন: আফসোস তোমার জন্য তুমি তোমার মায়ের চরণ আঁকড়ে ধরো। সেখানেই রয়েছে জান্নাত।১
আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি ইয়ামেন থেকে হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ (সা) এর দরবারে এসেছে। রাসূল (সা) তাঁকে বললেন: তুমি শিরক পরিত্যাগ করে এসেছো। তবে তোমার জিহাদ বাকী রয়ে গেছে। ইয়ামেনে ইক তোমার মাতা-পিতা নেই? লোকটি বলল, হ্যাঁ আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁরা কি তোমাকে জিহাদে আসার অনুমতি দিয়েছে? জবাবে লোকটি বলল, না অনুমতি দেয়নি। রাসূলুল্লাহ রাসুল্লাহ (সা) তাকে বললেন : তোমার মাতা-পিতার কাছে যাও, তাঁরা অনুমতি দিলে জিহাদের জন্য এসো। অন্যথায় তাঁদের সেবা-যত্ন করো।২
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর দরবারে এসে আরয করল, (ইয়া রাসূলুল্লাহ)! আমার জিহাদে যাওয়ার খুব ইচ্ছা, অথচ আমার সেই সামর্থ্য নেই। রাসূল (সা) বললেন, তোমার মাতা-পিতা কেউ বেঁচে আছেন কি? লোকটি বলল, আমার মা বেঁচে আছেন? তিনি বললেন : যাও তোমার মায়ের সেবায় নিয়জিত থেকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করো। এটা যদি তুমি করতে
পারো, তাহলে তুমি হজ্জ ও উমরা এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী হিসাবে পরিগণিত হবে।১
আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) এর দরবারে এসে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন নাজাত লাভের উদ্দেশ্যে আপনার সাথে জিহাদ করার জন্য এসেছি। আমাকে আসতে দেখে আমার মাতা-পিতা দুজনই কাঁদছিলেন। একথা শুনে তিনি লোকটিকে বললেন; তুমি তাঁদের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটাও, যেমনিভাবে তুমি তাঁদেরকে কাঁদিয়েছিলেন।২
আল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি বলল, আমি আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান পাওয়ার আশায় আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের বাইয়াত করছি। তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার মাতা-পিতার মধ্যে কেউ কি জীবিত আছেন? লোকটি উত্তরে বলল, তাঁরা উভয়ে জীবিত আছেন। তিনি লোকটিকে বললেন; তুমি কি বাস্তবিকই আল্লাহর নিকট থেকে হিজরত ও জিহাদের প্রতিদান পেতে চাও? লোকটি জবাবে বললো, হ্যাঁ, পেতে চাই। রাসূল (সা) এরশাদ করলেন: তুমি তোমার মাতা-পিতার কাছে ফিরে যাও, তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে থাকো।৩
মুয়াবিয়া ইবন জাইমা (রা) থেকে বর্ণিত, একদিন আমার পিতা জাহিমা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি জিহাদে অংশ গ্রহণ করার ইচ্ছা করেছি। এ ব্যাপারে আমি আপনার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার মা জীবিত আছেন কি? সে বললো, হ্যাঁ, আছেন। তিনি বললেন: যাও, মায়ের খেদমতে আত্মনিয়োগ করো। কেননা জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে।৪
Post new comment