আল্লাহ তাআলা বলেন : তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উহ শব্দটি বলবে না এবং তাদেরকে ভৎসনা করবে না। বরং তাদের সাথে সম্মান ও শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলবে এবং বিনয় ও নম্রতসহকারে তাদের সামনে নত হয়ে থাকবে। আর এ দুআ করতে থাকবে : হে আমার প্রতিপালক। তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।১
ব্যাখ্যা : মাতা-পিতার সেবযত্ন ও আনুগত্য করা এবং সবসময়ই তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করা ওয়াজিব। তবে মাতা-পিতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁরা সন্তানের সেবা-যত্নের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন এবং সন্তানের দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অপরদিকে বার্ধক্যের চাপে মানুষের মেজায রুক্ষ ও খিটখিটে হয়ে যায়। এবং বিবেক বুদ্ধিও কম-বেশী লোপ পায়। ফলে তাঁরা অবুঝ শিশুর মতো দাবী দাওয়া পেশ করতে থাকে, যা পূরণ করা সন্তানের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সন্তানের পক্ষ থেকে সামান্য বিমুখতাও তাঁদের অন্তরকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। পবিত্র কুরআন এসব অবস্থায় মাতা-পিতার সন্তুষ্টি ও তাঁদের সুখ-শান্তি বিধানের আদেশ দেয়ার সাথে সন্তানকে তার শৈশবকাল স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আজ মাতা-পিতা যতটুকু তোমার মুখাপেক্ষী, এক সময় তুমি তাঁদের এর চাইতেও বেশী মুখাপেক্ষী ছিলো। তখন তাঁরা যেমন অন্তরকে আরাম-আয়েশ হারাম করে তোমার চাওয়া-পাওয়া ও বাহানা পূরণ করেছিলেন, তোমার অবুঝ কথাবার্তাকে স্নেহ মমতার আবরণ দ্বারা ঢেকে নিয়েছিলেন, তেমনি তাঁদের মুখাপেক্ষিতা ও অসহায়ত্বের দু:সময়ে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করে ঋণ পরিশোধ করা ও তাঁদের সেবা-যত্ন করা এবং তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করা তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।
--------------------------------------------------------------------------------------------
আলোচ্য আয়াতসমূহে মাতা-পিতার বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সম্পর্কিত কতিপয় আদেশ দান করা হয়েছে।
এক: তাঁদেরকে উহ শব্দটিও বলবে না। অর্থাৎ তাঁদের কথা শুনে সামান্যতম বিরক্তি প্রকাশ পায়, এমন ধরনের কোন শব্দ উচ্চারণ করবে না। তাঁদের কথা যতই অযৌক্তিক ও কর্কশ হোক না কেন।
দুই: মাতা-পিতার মর্যদার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কথা-বার্তা বলার সময় তাদের মান-সম্মানের প্রতি খেয়াল রেখে কথা বলতে হবে। তাঁদের অযৌক্তিক দাবী ও রুক্ষ মেজায হাসিমুখে সইতে হবে। কোন সময় বিরক্ত হয়ে এমন কোন কথার উচ্চারণ করা যাবে না, যাতে তাঁরা সামন্যতমও মনে কষ্ট পায় এবং যা তাঁদের মান-সম্মানের পরিপন্থী হয়।
তৃতীয় : এ আদেশে মাতা-পিতার সাথে কথা বলার আদব শিক্ষা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের উভয়ের সাথে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সাথে নত ও বিনম্র স্বরে কথা বলতে হবে।
চার : মাতা-পিতার সামনে নিজেকে অক্ষম এবং নত ও বিনম্রভাবে পেশ করতে হবে। মাতা-পিতার প্রতি, পূর্ণ আন্তরিকতা, মায়া-মমতা এবং ভক্তি ও শ্রদ্ধা সহকারে নিজেকে ছোট করে তাঁদের সামনে হাজির হতে হবে।
পাঁচ :পঞ্চম আদেশ, মাতা-পিতার সন্তুষ্টি ও সুখ-শান্তি ষোল আনা নিশ্চিত করা মানুষের সাধ্যাতীত। কাজেই সাধ্যানুযায়ী চেষ্টার সাথে সাথে তাঁদের জন্য দুআ করতে হবে, তিনি যেন মেহেরবানী করে তাঁদের সকল মুশকিল আসান করে দেন এবং তাঁদের সব ধরনের কষ্ট দূর করে দেন। সর্বশেষ আদেশ হচ্ছে, মাতা-পিতার মৃত্যুর পরও তাঁদের জন্য অব্যহতভাবে দুআ করে যেতে হবে।১
পবিত্র কুরআনে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: অত:পর বালকটির ব্যাপার-তার মাতা-পিতা ছিল ঈমানদার। আমি আশাংকা করলাম, সে অবাধ্যতা ও কুফুর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে। অত:পর আমি ইচ্ছা করলাম, তাদের শাসনকর্তা তাদেরকে তার চাইতে পবিত্র ও ভালোবাসায় শ্রেষ্ঠতম একটি সন্তান দান করুন।২
ব্যাখ্যা :হযরত খিযির (আ) যে বালকটিকে হত্যা করেন, তিনি তার স্বরূপ এই বর্ণনা করেন যে, তার প্রকৃতিতে কুফর ও মাতা-পিতার অবাধ্যতা নিহিত ছিল। তার মাতা-পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ণ। আমার আশাংকা ছিল যে, ছেলেটি বড় হয়ে
--------------------------------------------------------------------------------------------
১। মুফতী মুহাম্মাদ শফী মাআরিফুল কুরআন। অনু: মাও মহিউদ্দীন খান পৃ. ৭৭২-৭৭৩
২। সূরা আল কাহাফ : ৮০-৮১
--------------------------------------------------------------------------------------------
তার মাতা-পিতাকে বিব্রত করবে এবং কষ্ট দেবে। সে কুফরে লিপ্ত হয়ে মাতা-পিতার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।১
আল্লাহ তাআলা বলেন : যে ব্যক্তি স্বীয় মাতা-পিতাকে বলে, ধিক তোমাদের প্রতি, তোমার কি আমাকে খবর দিচ্ছো, আমি আবার পুনরুত্থিত হবো, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর (তার) মাতা-পিতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে, তোমার ধ্বংস (অনিবার্য)। তুমি ঈমান আনো। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য।২
ব্যাখ্যা : এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মাত-পিতার অবাধ্য সন্তানদের বর্ণনা দিয়েছেন, যারা মাতা-পিতার অবাধ্য হয় এবং আল্লাহ ও পরকালকে অস্বীকার করে। তারা যদি ঈমানদার মাতা-পিতার আনুগত্য না করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানদার না আনে, তবে তাদের ধ্বংস অর্থাৎ ইহকালে নানা ধরনের বিপদাপদ ও কষ্ট কঠোরতা এবং পরকালে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপরিহার্য।৩
জঘন্যতম পাপ
আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচাইতে বড় কবীরা (জঘন্যতম) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না। একথা তিনি তিন বার বললেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, কেন নয়, অবশ্যই করবেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার নাফরমানী করা। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অত:পর সোজা হয়ে বসে বলতে লাগলেন, (খুব ভালো করে শোন) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি বার বার একথা বলতে থাকেন। অবশেষে আমরা (মনে মনে) বললাম, হায়! তিনি যদি চুপ হয়ে যেতেন।৪
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহ আমর ইবন হাযম (রা) এর মাধ্যমে ইয়েমেনবাসীদের নিকট একখানা পত্র প্রেরণ করেছিলেন। তাতে তিনি তাদেরকে
--------------------------------------------------------------------------------------------
১। মাআরিফুল কুরআন (অনু: মাও : মহিউদ্দীন খান)
২। সূরা আল-আহকাফ : ১৭
৩। দেখুন, মুহাম্মাদ আলী সাবূনী, সাফওয়াতুত-তাফসীর, ৩ খ, পৃ. ১৯৬
৪। সহীহ আল-বুখারী, আদব, অনু : ৬, মাতা-পিতার নাফরমানী কবীরা গুনাহ; সহীহ মুসলিম ঈমান, অনু সবচাইতে বড় কবীরা গুনাহসমূহ বর্ণনা, ১ খ, পৃ. ৯১, নং ৮৭, আরো দ্র: তিরমিযী।
--------------------------------------------------------------------------------------------
সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন : কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট সবচাইতে বড় কবীরা গুনাহ হবে ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা, ২. অন্যায়ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করা, ৩. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা, ৪. মাতা-পিতার নাফরমানী করা। ৫. সতী সাধ্বী মহিলার ওপর অপবাদ দেয়া, ৪. যাদু শিক্ষা করা, ৭. সুদ খাওয়া ও ৮. ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা।১
আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (সা) বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহ বলেছেন, কবীরা গুনাহসমূহ হচ্ছে,
১. আল্লাহর সাথে শরীক করা,
২. মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া,
৩. মানুষ হত্যা করা ও
৪. মিথ্যা শপথ করা।২
হযরত তাইসালা ইবন মাইয়্যাস (রা) বলেন, আমি একটি সাহায্যকারী দলের সদস্য ছিলাম। সেখানে আমি কিছু গুনার কাজ করে ফেলেছি। সেটাকে কবীরা গুনাহ বলেই আমি ধরে নিয়েছিলাম। ইবন উমার (রা) এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তুমি যে সব গুনার কথা বলছো, তা কি কি? আমি বললাম, তা হচ্ছে এই এই। ইবন উমার (রা) বললেন,এগুলো কবীরা গুনাহ নয়। কবীরা গুনাহ হচ্ছে নয়টি।
১. আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা,
২. অন্যায়ভাবে কোন মানুষ হত্যা করা,
৩. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা,
৪. সতী সাধ্বী নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়া,
৫. সুদ খাওয়া,
৬, অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা,
৭. মাসজিদুল হারাম-এ হারামকে হালাল মনে করা,
৮. কাউকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা ও বিদ্রুপ করা ও
৯. মাতা-পিতার নাফরমানীর মাধ্যমে তাঁদেরকে কাঁদানো।
তাইসালা (রা) বলেন, হযরত ইবন উমার (রা) আমার মধ্যে ভয়-নীতি ও আতঙ্ক দেখে বললেন, তুমি কি জাহান্নামে প্রবেশ করাকে খুব ভয় করছো? আমি বললাম, জি হ্যাঁ। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান্নাতে যেতে চাও? আমি বললাম হ্যাঁ, যেতে চাই। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, তোমার মাতা-পিতা বেঁচে আছেন কি? আমি বললাম, আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, তুমি যদি তাঁর সাথে নম্রভাবে কথা বল এবং তাঁর ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করো, তাহলে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না তুমি কবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে।৩
--------------------------------------------------------------------------------------------
১. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩ খ, পৃ. ৩২৭; সহীহ ইবন হিব্বান বরাত,
২. সহীহ আল-বুখারী, শপথ ও মানত, অনু:মিথ্যা শপথ, নং. ৬৬৭; সহীহ মুসলিম, ইমান, অনু: কবীরা গুনাহসমূহে বর্ণনা, ১. খ, পৃ. ৯১, নং ৮৮
৩। নাদরাতুন নাঈম, ১০ খ, পৃ. ৫০১৬; তাফসীর আত-তাবারী-বরাত,
--------------------------------------------------------------------------------------------
হযরত আনাস (সা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবীরা গুনাহের কথা বলা হলে তিনি বলেন: কবীরা গুনাহ হলো- আল্লাহর সাথে শরীক করা ও মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া।১
আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেয়া অন্যতম কবীরা গুনাহ। সাহাবীগণ বললেন, কোন লোক কি নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেয়। তিনি বললেন: হ্যাঁ, দেয়। কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, প্রত্যুত্তরে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি অন্যের মাকে গালি দেয়, এর উত্তরে সেও তার মাকে গালি দেয়।৩
হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে গরু যবাই করে, যে ব্যক্তি জমির সীমানার বদলে দেয় এবং যে ব্যক্তি নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি লানত (অভিসম্পাত) করেন।৪
যে পিতাকে অভিমাপ দেয় তার ওপর আল্লাহ তাআলার অভিশাপ
হযরত আবূ তুফায়েল আমির ইবন ওয়াসিল (রা) বলেন, আমি হযরত আলী (রা) এর নিকট ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
--------------------------------------------------------------------------------------------
২. সহীহ আল বুখারী, আদব, অনু: মাতা-পিতার নাফরমানী করা কবীরা গুনাহ; সহীহ মুসলিম ঈমান, অনু: কবীরা গুনাহর বর্ণনা, ১, খ. পৃ. ৯২, নং ৮৮; আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩ খ. পৃ. ৩২৬
৩। সহীহ মুসলিম প্রাগুক্ত; তিরমিযী, বিরওয়াস সিলা, অনু: মাতা-পিতার নাফরমানী করা, ২ খ, পৃ. ১২, আল ইহসান বি-তারতীবে সহীহ ইবন হিব্বান, ১ খ, পৃ. ৩১৬
৪। সহীহ আল বুখারী, আদব, অনু: মাতা-পিতাকে গালি দিবে না, ২ খ, পৃ. ৮৮৩, নং ৫৯৭৩; আবু দাউদ, আদব, অনু: মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, ৪ খ, পৃ. ৩৩৬, নং ৫১৪১
১। আল ইহসান, ৬ খ, পৃ. ২৯৯; আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩খ, পৃ. ৩৩১
--------------------------------------------------------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আপনাকে এমন কোন কথা বলেছেন, যা অন্য কাউকে বলেননি? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এমন কোন কথা বলেননি, যা তিনি অন্যকে বলেননি। তবে তিনি আমার নিকট চারটি বিষয় বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সে চারটি বিষয় কি? তিনি বললেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি পিতাকে অভিশাপ দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন। যে ব্যক্তিগাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন। যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করে এবং যে ব্যক্তির জমির সীমানা বদলে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন।১
আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সপ্ত আসমানের ওপর থেকে সাত প্রকার লোকের ওপর অভিসম্পাত করেন। তাদের মধ্যে থেকে এক শ্রেণীর লোকের ওপর তিনবার অভিসম্পাত করেন। অপর প্রত্যেক শ্রেণীর প্রতি একবার করে অভিসম্পাত করেন যা তাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেন : যারা লূত (আ) এর জাতির ন্যায় অপকর্ম করে তারা অভিশপ্ত। যারা লূত (আ) এর জাতির ন্যায় অপকর্ম করে তারা অভিশপ্ত। যারা গাইরুল্লাহর নামে যবাই করে তারা অভিশপ্ত। যারা মাতা-পিতার অবাধ্য তারা অভিশপ্ত।২
--------------------------------------------------------------------------------------------
১. সহীহ মুসলিম, আদাহী, অণু: গাইরুল্লাহর নামে যবাই করা হারাম, ৩ খ, পৃ. ১৫৬৮, নং ১৯৭৮ আল মুস্তাদরাক, বির ওয়াস সিলা, ৪ খ, পৃ. ১৫৩; নাদরাতুন নাঈম, ১০ খ, পৃ. ৫০১৫
২. আল মুস্তাদরাক, হুদূদ, ৪ খ, পৃ. ৩৫৬; আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩ খ, পৃ. ৩৩০
৩. ফাতহুর রাব্বানী, ১৯ খ, পৃ. ২৮৪, আত-তারহীব, ৩ খ, পৃ. ৩২৭
--------------------------------------------------------------------------------------------
Post new comment