m. মাতা-পিতার ইন্তিকালের পর সন্তানের করণীয়

হযরত আবূ উসাইদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মাতা-পিতার ইন্তিকালের পর তাঁদের সাথে আমার সদ্ব্যবহার করার কিছু অবশিষ্ট আছে কি? তিনি বললেন হ্যাঁ আছে। (চারটি কাজের মাধ্যমে তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পার।)
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। সহীহ আল বুখারী, ২ খ, পৃ. ৮৮৩, সহীস মুসলিম, যিকির ওয়াদ দুআ, অনু: ২৭, তিন গুহাবাসীর ঘটনা; ৪ খ, পৃ. ২০৯৯; হাদীস নং ২৭৪৩।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তাঁদের জন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কৃত ওয়াদাসমূহ পূর্ণ করা। তাঁদের সাথে যাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার ও সুন্দর আচরণ করা। তাঁদের বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।১
মাতা-পিতার জন্য দুআ করা

আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, জান্নাতে মানুষের মর্যদা অবশ্যই বৃদ্ধি করা হবে। সে বলবে, এটা (মর্যাদা বৃদ্ধি) কিভাবে হলো? বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার বদৌলতে।২

আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তা সমস্ত নেক আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি নেক আমল যা তার মৃত্যুর পরও চালু থাকে।
এক. সাদাকায়ে জারিয়া।৩
দুই. তার রেখে যাওয়ার জ্ঞান ভান্ডার যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। তিন. তার সৎ সন্তান যারা তার জন্য দুআ করতে থাকে।৪

হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো মাতা-পিতা উভয়ে অথবা একজন এমতবস্থায় ইন্তিকাল করল যে, সে তাঁদের অবাধ্য ছিল। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর সে তাঁদের জন্য সর্বদা দুআ ও ইস্তিগফার করতে থাকে এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাকে নেককার লোকদের মধ্যে শামিল করে দেন।৫

মাতা-পিতার ঋণ পরিশোধ করা :

হযরত বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে বসা ছিলাম। তখন একজন মহিলা তাঁর খেদমতে এসে আরয করল, আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছি।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। আবূ দাউদ, আদব, অনু: মাতা-পিতার সাথে সদ্যবহার, ৪ খ, পৃ. ৩৩২ নং ৫১৪২ ইবনে মাজাহ, আদব প. ২৩০; আল মুস্তাদরাক, বির ওয়াস সিলা , ৪ খ. পৃ. ১৫৪।
২। ইবন মাজাহ, আদব অধ্যায়, অনু:মাত-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার,
৩। মাসজিদ মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক কাজ প্রভৃতি।
৪। সহীহ মুসলিম, আল ওসিয়্যাহ, আণু; মৃত্যুর পর মানুষের যে সওয়াব যোগ হয়, ৩ খ, পৃ. ১২৫৫ নং ১৬৩১।
৫। ওয়ালীউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আত তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ, আদব, অনু: মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার পৃ. ৪২১ ; (বায়হাকী বরাত)।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ইতিমধ্যে তিনি ইন্তিকাল করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললে, দাসী দান করার প্রতিদান তুমি অবশ্যই পাবে এবং মীরাস হিসেবে দাসীটিও তুমি ফেরত পাবে। মহিলাটি আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মাসের রোযা তাঁর অনাদায় রয়ে গেছে, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে সে রোযা কাযা আদায় করবো? তিনি বললেন: তুমি তাঁর কাযা রোযা আদায় কারো। সে বলল, আমার মা কখনো হজ্জ করেননি, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ করবো? তিনি বললেন, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ করো।১

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরবারে এসে আরয করল, হে আল্লাহ রাসূল! আমার মা এক মাসের রোযা অনাদায় রেখে মারা যান। আমি কি তাঁর রোযাগুলো পালন করব? তিনি বললেন; তোমার মায়ের যদি কোন ঋণ থাকতো, তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? লোকটি বলল, হ্যাঁ, পরিশোধ করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর ঋণ সর্বাগ্রে পরিশোধযোগ্য।২

মাতা-পিতার ওয়াদা ও অসিয়াত পূরণ করা
হযরত আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন, হযরত আসআদ ইবন উবাদা (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা মানত করেছিলেন, কিন্তু তা আদায় করার পূর্বে তিনি ইন্তিকাল করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে মানত পুরো করে দাও।৩

হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করল, হে আল্লাহ রাসূল! আমার মা ইন্তিকাল করেছেন, তিনি কোন অসিয়াত করে যাননি। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু সাদকাহ করি তাহলে কি তাঁর কোন উপকার আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ, উপকারে আসবে...............।৪
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। সহীহ মুসলিম, সিয়াম, অনু:মৃত ব্যক্তির কাযা রোযা আদায় করা, ২ খ, পৃ. ৮০৫. নং ১১৪৯;
২। প্রাগুক্ত, পৃ. ৮০৪, নং ১১৪৮
৩। সহীহ আল বুখারী, কিতাবুল হিয়াল, অনু; যাকাত, সম্পর্কে, নং ৬৯৫৯; আরো দ্র: আবূ দাউদ, মুয়াত্তা, নাসাঈ।
৪। আবূ দাউদ,কিতাব আল-অসায়া ; অনু যে অসিয়াত না করে মৃত্যু বরণ করল, তার পক্ষে থেকে দান করা, ৩ খ, পৃ. ১১৮
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মাতা-পিতার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সদ্ব্যবহার
ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমার পিতা বন্ধুদের ব্যাপারে যত্নবান হও। তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, (যদি ছিন্ন কর) তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমার নূর বিলুপ্ত করে দেবেন।১
হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির সর্বাপক্ষা বড় সৎকাজ হচ্ছে, পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।২

হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক আরব বেদুইন তাঁর সাথে মক্কার পথে মিলিত হলো। আবদুল্লাহ (রা) তাকে সালাম দিলেন এবং তাঁর সাওয়ারী গাধার ওপর তাকে তুলে নিলেন। তিনি নিজের মাথার পাগড়ীও তাকে দিয়ে দিলেন। (তার এক সফরসঙ্গী) ইবন দীনার বলেন, আমার তাকে (আবদুল্লাহকে) বললাম, আল্লাহ তাআলাকে কল্যাণ দান করুন! তারা তো গ্রামবাসী। তারা অল্প কিছু পেলেই তাতে সন্তুষ্ট হয়। (দুদিরহাম দিয়ে দিলেই তো যথেষ্ট হতো)। আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) বললেন, এ লোকটির পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) এর বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম সৎকাজ হচ্ছে, পিতার বন্ধুদের সাথে তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা।৩

হযরত আবূ বুরদা (রা) বলেন, আমি মদীনায় আসলে হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, আবূ বুরদা। তোমার নিকট কেন এসেছি তা তুমি কি জান? আবূ দারাদা (রা) বললেন, আমি তো তা জানি না। আবদুল্লাহ (রা) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কবরে অবস্থিত নিজের পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করতে চায়, তার উচিত, পিতার মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সুন্দর আচরণ করা। এরপর তিনি বললেন, ভাই! আমার পিতা-হযরত উমার
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। নাদরাতুন নাঈম, ৩ খ, ৭৭৫; হাইসামী আল মাজমা ; ৮ খ, পৃ. ১৪৭ বরাত,
২। সহীহ মুসলিম বির ওয়াস সিলা, অনু : মাতা-পিতার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সদাচারণ করার ফযীলত ৪ খ, পৃ. ১৯৭৯, নং ১২, আরো দ্র: তিরমিযী, আবূ দাউদ, মুসনাদে আহমেদ
৩। নাদরাতুন নাঈম, ৩ খ, পৃ. ৭৭৪।
(রা) এর সাথে আপনার পিতার ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আমি সেই বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক তার হক আদায় করতে চাই।১
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মাতা-পিতার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ করা
হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :আল্লাহ তাআলা সমগ্র মাখলুক সৃষ্টি করে যখন অবসর হলেন, তখন রেহেম (আত্মীয়তা) উঠে দাঁড়িয়ে রাহমানুর রাহীমের কোমর ধরল। আল্লাহ বললেন :থাম! (তুমি কি চাও) রেহম আরয করলো, এটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার স্থান। আল্লাহ বললেন,তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে বেক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক বহাল রাখবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক বহাল রাখবো। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো। রেহম বলল, হ্যাঁ, আমি রাযী আছি, হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহ বললেন : ঠিক আছে, তোমার সাথে আমার এ অঙ্গীকার থাকল।২

আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রেহম শব্দটি রহমান থেকে উদ্ভুত। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন :যে ব্যক্তি তোমার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখবো। আর যে ব্যক্তি তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করবো।৩

হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রেহম আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে, যে আমার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে, আল্লাহ ও তার সম্পর্ক অটুট রাখবেন। আর যে আমাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহ ও তাকে ছিন্ন করবেন।৪

হযরত জুবায়ের ইবন মুতায়িম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। আলাউদ্দীন আলী ইবন বালবান, আল-ইহসান বা তারতিবে সহীবহ ইবন হিব্বান, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, বৈরূত, ১ম সং ১৮০৭ হি. ১৯৮৭ সন, ১ খ. পৃ. ৩২৯।
২। সহীহ আল-বুখারী, আদব, অনু: ১৩, যে ব্যক্তি আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন, নং ৫৯৮৭, সহীহ মুসলিম, বির ওয়াসসিলা, অনু: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, নং ২৫৫৪
৩। সহীহ আল বুখারী, প্রাগুক্ত
৪। সহীহ মুসলিম, প্রগুক্ত
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।১
হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয়, যে শুধু বিনিময় স্বরূপ তা রক্ষা করে। বরং সে ব্যক্তিই আত্মীয়তা রক্ষাকারী, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পর সে তা পুনস্থাপন করে।২

হযরত আবূ হুরাইরা (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, অথচ তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের ব্যবহারে ধৈর্যধারণ করি, কিন্তু তারা আমার সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে। জবাবে তিনি বললেন, তুমি যেরূপ বললে, যদি তুমি এরূপ আচরণই করে থাকো, তবে তুমি যেন তাদের মুখের ওপর ছাই নিক্ষেপ করছো। তুমি যতক্ষণ এ নীতির ওপর বহাল থাকবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাআলাকে পক্ষ থেকে তোমার সাথে একজন সাহায্যকারী থাকবেন, যিনি তাদের ক্ষতিকে প্রতিরোধ করেন।৩

হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় জীবিকা বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে উত্তম ব্যবহার করে।৪

হযরত আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন, আমি আল্লাহ , আমি রহমান। রেহম (আত্মীয়তা) কে আমিই সৃষ্টি করেছি। আর রেহম শব্দটি আমি আমার (রহমান) নাম থেকে নি:সৃত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়তাকে সংযোজিত করবে, আমি তাকে (আমার রহমতের সাথে) সংযোজিত করবো। আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তাকে ছিন্ন করনবে, আমিও তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো।৫
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। সহীহ আল-বুখারী, আদব, অনু; আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত, নং ৫৯৮৪,সহীহ মুসলিম, প্রগুক্ত
২। সহীহ আল-বুখারী, আদব, অনু: প্রতিদানে আত্মীয়তার হক আদায় হয় না, নং ৯৫১
৩। সহীহ মুসলিম, প্রগুক্ত, নং ২৫৫৮
৪। সহীহ আল বুখারী, আদব, আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহারে রিযক বৃদ্ধি পায়, নং ৫৯৮৫-৬; সহীহ মুসলিম, প্রগুক্ত,
৫। আবূ দাউদ, যাকাত, অনু: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, নং ১৬৯৬
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

হযরত আবদুল্লাহ ইবন আউফ (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, সে সম্প্রদায়ের প্রতি অল্লাহর রহমত বর্ষণ হয় না, যাদের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বিদ্যমান রয়েছে।১

হযরত আবূ বকর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিদ্রোহ করা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা অপেক্ষা কোন পাপই এত জঘন্য নয় যে, এ পাপাকারীকে আল্লাহ তাআলা শীঘ্রই এ পৃথিবীতে শাস্তি প্রদান করেন এবং পরকালেও তার জন্য তা জমা করে রাখেন।২

ব্যাখ্যা : বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার পাপ এতই জঘন্য যে, দুনিয়াতে শীঘ্রই এ পাপের শাস্তি প্রদান করা হবে। কিন্তু দুনিয়াতে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমেই এ পাপ মোচন হবে না। বরং পরকালেও এর জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের বংশসমূহের এ পরিমাণ পরিচয় অর্জন করো, যাতে তোমরা নিজেদের আত্মীয়তার হক আদায় করতে পার। কেননা আত্মীয়তা রক্ষা করার মাধ্যমে আপনজনের মধ্যে সম্প্রীতি অর্জিত হয়, ধন-সম্পদ ও হায়াত বৃদ্ধি পায়।৩

হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি জঘন্য পাপ করেছি। আমার তওবার কোন ব্যবস্থা আছে কি? তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন; তোমার মা জীবিত আছেন কি? সে বলল না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কোন খালা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাও, তাঁর খেদমত করো।৪

ব্যাখ্যা : তওবা ছাড়া কবীরা গুনাহ মাফ হয় না। আর মায়ের অবর্তমানে খালার সাথে সদাচরণ করা তওবা কবুল হওয়ার জন্য সহায়ক। তাই নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালার খেদমত করার আদেশ করছেন।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। মিশকাতুল মাসাবীহ, প্রাগুক্ত, (বায়হাকী বরাত)
২। আবূ দাউদ, আদব, অনু: বিদ্রোহ করা নিষিদ্ধ ; আরো দ্র: তিরমিযী, ইবন মাজাহ
৩। তিরমিযী, বির ওয়াস সিলা, অনু: বংশ পরিচয় জানা;
৪। তিরমিযী, বিরওয়াস সিলা, অনু: খালার সাথে সৎ ব্যবহার করা; আল মুস্তাদরাক, বির ওয়াস সিলা।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
হযরত সাঈদ ইবন আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পিতার অধিকার যেমন সন্তানের ওপর রয়েছে, তেমনি ছোট ভাইয়ের ওপরও বড় ভাইয়ের অধিকার রয়েছে।১

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.

More information about formatting options

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

ফেসবুক ফ্যান


সাম্প্রতিক মন্তব্য

পড়া লেখা

নতুন সদস্য

  • Beeboutcell
  • saifulalam21
  • sohail.ahsan
  • meardoleandor
  • biplob.haque
  • ladislavapene44
  • melrkdmopo
  • lepelerorm
  • mehelroler
  • filipaurelia91

অনলাইনে আছেন

There are currently 0 users and 10 guests online.