হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স) যে ব্যক্তি নিজের হায়াত বৃদ্ধি ও জীবিকার প্রশস্ততা কামনা করে, সে যেন মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে।১
হযরত মুআয ইবন আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তার জন্য সুসংবাদ হলো, আল্লাহ তাআলা তার হায়াত বৃদ্ধি করে দেবেন।২
হযরত ওয়াহাব ইবন মুনিয়্যা (রা) বলেন, মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার সন্তানের হায়াত বৃদ্ধি করে দেয়।৩।
হযরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, দুআ ব্যতীত কোন কিছুই তাকদীরকে ফিরাতে পারে না। নেক আমল ব্যতীত কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না। আর ব্যক্তির কৃত গুনাহ-ই তাকে জীবিকা থেকে বঞ্চিত করে।৪
হযরত ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের পিতাদের (পিতা ও দাদার) সাথে সদ্ব্যবহার সদাচরণ করো, তাহলে তোমাদের সন্তানেরাও তোমাদের সাথে সদাচারণ করব। তোমরা সচ্চরিত্রবান হও, তোমাদের নারীরাও সচ্চরিত্রবান হবে।৫
আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, তোমরা পরনারীর প্রতি কৃদৃষ্টি দেয়া থেকে নিজেদেরকে। পবিত্র রাখা এবং সচ্চরিত্রবান হও, তোমাদের নারীরাও পবিত্র ও সচ্চরিত্রবান হবে। তোমাদের বাপদাদাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো, তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে..................।৬
হযরত ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, তিন ব্যক্তি চলার পথে বৃষ্টির কবলে পড়ে পর্বত গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় একখানা প্রকান্ড পাথর পাহাড় থেকে গড়িয়ে গুহার মুখে এসে পড়ে। ফলে গুহার মুখ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা একে অপরকে বলল, তোমার নিজেদের এমন কোন নেক আমলের কথা স্মরণ করো যা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। আর সেই নেক আমলের অসীলা করে আল্লাহর নিকট দুআ করো। আশা করা যায়, এর বদৌলতে তিনি বিপদ দূর করে দেবেন। অত:পর তাদের একজন বলল, যে আল্লাহ! আমার অতি বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিলেন এবং ছোট ছোট কয়েকটি বাচ্চাও ছিল। আমি তাদের জন্য মেষ ও দুম্বা চরাতাম এবং আসার সময় তাদের জন্য দুধ দোহন করে আনতাম। আমার সন্তানদের দুধ পান করানোর আগেই আমার মাত-পিতাকে দুধ পান করাতাম। ঘটনক্রমে একদিন চারণ বৃক্ষ আমাকে দূরে নিয়ে যায়। ফলে ঘরে ফিরতে আমার সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমি এসে তাদেরকে (মাতা-পিতাকে) ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। প্রতিদিনের ন্যায় আজও দুধ দোহন করে দুধের পাত্র নিয়ে তাঁদের কাছে আসলাম এবং পাত্র হাতে নিয়ে তাঁদের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তাঁদের ঘুম থেকে ডাকা এবং তাঁদের আগে বাচ্চাদেরকে দুধ পান করানো আমি ভালো মনে করলাম না। অথচ আমার বাচ্চাগুলো (ক্ষুদার যাতনায়) আমার পায়ে পড়ে কাঁদছিল। আমার ও তাদের অবস্থা সকাল পর্যন্ত বিদ্যমান রইল। (অবশেষে আমার মাতা-পিতা ঘুম থেকে জাগার প্রথমে তাঁদেরকেই দুধ পান করালাম)। ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি জান যে, আমি এ কাজটি একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছিলাম, তাহলে এর অসীলায় আমাদের জন্য (গুহার মুখ থেকে) পাথরটি এতটুকু সরিয়ে দাও যাতে আমরা অবকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাআলা পাথরটি একটুকু পরিমাণ সরিয়ে দিলেন যে, তারা আকাশ দেখতে পাচ্ছিলো.............।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। ফাতহুর রাব্বানী, ১৯ খ, পৃ. ৩৫ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খ, পৃ. ৩১৭।
২। আত-তারগীব ওয়াত তাহবীব, ত খ, পৃ. ৩১৭; আল মুস্তাদরাক ৪ খ, পৃ. ১৫৪
৩। আদ-দুররুল মানসুর; ৫ খ, পৃ. ২৬৭
৪। ইবন মাজাহ, পৃ. ১০ আরো দ্র: মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী;
৫। আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩ খ, পৃ. ৩১৮
৬। আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩ তখ, পৃ. ৩১৭; আল-মুস্তাদরাক, ৪ খ, পৃ. ১৫৪
Post new comment