লেখক : সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী

বইয়ের আলোচ্য বিষয় দুটি ! ১. জিহাদের উদ্দেশ্য ২. জিহাদের গুরুত্ব
....কালেমা পড়ে ইসলামের সীমার মধ্যে প্রবেশ করলেই ইসলাম তোমাকে মানুষের উপর আক্রমন করার অধিকার বা অনুমতি দেয় না ৷ কারণ, তখন তুমিও ঠিক সেই দুষ্কার্য করতে শুরু করবে; যা করছে দুনিয়ার বর্তমান আল্লাহদ্রোহী ও যালেম লোকাগণ ৷ বরং এতবড় বিরাট দায়িত্ব গ্রহণ করার আদেশ দেয়ার পূর্বে ইসলাম তোমার মধ্যে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার যোগ্যতা সৃষ্টি করতে চায় ৷
বস্তুতঃ ইসলামে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদাতসমূহ এ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতির জন্যই নির্দিষ্ট হয়েছে ৷ দুনিয়ার সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি নিজ নিজ সৈন্যবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল সার্ভিসের কর্মচারীদের সর্বপ্রথম এক বিশেষ ধরনের ট্রেনিং দিয়ে থাকে ৷ সেই ট্রেনিং- এ উপযুক্ত প্রমাণিত হলে পরে তাকে নির্দিষ্ট কাজে নিযুক্ত করা হয় ৷ ইসলামও তার কর্মচারীদের সর্বপ্রথম এক বিশেষ পদ্ধতির ট্রেনিং দিতে চায়৷ তারপরই তাদের জিহাদ ও ইসলামী হুকুমাত কায়েম করার দায়িত্ব দেয়া হয় ৷ তবে এ উভয়ের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে৷ দুনিয়ার রাষ্ট্রসমূহ তাদের কর্মচারীদের যে কাজে নিযুক্ত করে থাকে তাতে নির্মল নৈতিক চরিত্র, মনের নিষ্কলুষতা ও পবিত্রতা এবং আল্লাহর ভয় সৃস্টির কোনই আবশ্যক হয় না ৷
এ জন্য তাদেরকে কেবল সুদক্ষ করে তোলারই চেষ্টা করা হয় ৷ আর সুদক্ষ হওয়ার পর সে যদি ব্যভিচারী হয়, মদ্যপায়ী হয়, বেঈমান ও স্বার্থপর হয় তবুও তাতে কোনরূপ আপত্তির কারণ নেই৷ কিন্তু ইসলাম তার কর্মীদের উপর যে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করে তা আগা গোড়া সবই হচ্ছে একান্তভাবে নৈতিক কাজ৷ অতত্রব ইসলামে তাদের সুদক্ষ করে তোলার দিকে যতখানি লক্ষ্য দেয়া হয়, তাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় জাগিয়ে তোলা এবং তাদের মন ও আত্মাকে পবিত্র করার দিকে গুরুত্ব দেয়া হয় তদপেক্ষা অনেক বেশী ৷ ইসলাম তাদের মধ্যে এতখানি শক্তি জাগাতে চায় যে, যখন তারা দুনিয়ার বুকে আল্লাহর হুকুমাত কায়েম করার দাবী নিয়ে উঠবে, তখন যেন তারা নিজেদের এ দাবীর ঐকান্তিকতা ও সততা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রমাণ করে দেখাতে পারে৷ তারা যেন কখনই নিজেদের ধন-দৌলত, জমি-জায়গা, দেশ ও রাজ্য, সম্মান ও প্রভুত্ব লাভ করার জন্য লড়াই না করে৷ তারা যেন খাঁটিভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে লড়াই করে, আল্লাহর কোটি কোটি বান্দার জন্য লড়াই করে, আর একথা যেন কাজকর্মের ভেতর দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই প্রমাণিত হয় ৷ তারা বিজয়ী হলে যেন অহংকারী, দাম্ভিক ও আল্লাহদ্রোহী না হয়, তখনও যেন তাদের বিনয়াবনত মস্তক আল্লাহর সামনে অবনমিত থাকে ৷ তারা শাসক হলে মানুষকে যেন তারা নিজেদের দাসানুদাসে পরিণত না করে৷ বরং নিজেরাই যেন আল্লাহর গোলাম হয়ে জীবন যাপন করে৷ আর আন্যান্য মানুষকেও যেন একমাত্র আল্লাহর দাস বানাতে চেষ্টা করে৷ তারা রাষ্ট্রের ধনভাণ্ডার হস্তগত করে থাকলে তা যেন কেবল নিজের বা নিজের বংশের কিংবা জাতীয় লোকদের পকেট বোঝাই করার কাজে উজাড় করে না দেয়৷ তারা যেন অল্লাহর ধনভাণ্ডারকে তাঁরই বান্দাদের মধ্যে সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে বন্টন করে দেয় এবং একজন খাঁটি আমানতদারের ন্যায় একথা স্মরণ রেখে কাজ করে যে, এক অদৃশ্য চোখ তাকে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছে- ওপরে কেউ আছে, যার দৃষ্টি হতে সে কিছুতেই লুকিয়ে থাকতে সক্ষম নয় এবং তারই কাছে তাকে এক এক করে পয়সার হিসাব দিতে হবে৷
.....
Post new comment