ব্যক্তি ও সমাজের আধ্যাত্নিক দীক্ষা পালনের জন্য এবং এটাকে উচ্চতম আদর্শের উপযোগী করে তৈয়ার করার জন্য ইসলাম যে পন্থা অবলম্বন করেছে সর্বশেষে তার বিশ্লেষণ করব। ইসলামের এ দীক্ষা পদ্ধতির বুনিয়াদী পন্থা চারটি।
প্রথম পন্থা হচ্ছে-সালাত।
ইহা দৈনিক পাচবার মানুষকে নতুন করে আল্লহকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর ভয়কে বারবার সতেজ করে দেয়। এতে আল্লাহর প্রেম ও ভালবাসা মানুষের নিত্য নতুন করে জেগে উঠে। তার আদর্শ ও বিধি-নিষেধ পুন: পুন: মানুষের সামনে উপস্থিত করে। এবং তা অনুসরণ করে চলার কথা বারবার স্মৃতিপটে জাগ্রত করে। সালাত শুধু একটা ব্যক্তিগত ব্যাপারই নয়, তা জামায়াতের সাথেই আদায় করার জন্য ফরয করা হয়েছে, যেন গোটা সমাজেই সমষ্টিগতভাবেই এ আধ্যাত্নিক উন্নতির পথে চলার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে-সওম।
এটা প্রত্যেক বছরই পূর্ণ এক মাসকাল ধরে স্বতন্ত্রভাবে প্রত্যেকটি মুসলিম ব্যক্তিকে এবং সমষ্টিগতভাবে গোটা মুসলিম সমাজকে তাকওয়ার দীক্ষা দেয়।
তৃতীয় পন্থা হচ্ছে-যাকাত।
এটা মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থ দান, পারস্পরিক সহানুভুতি এবং সহযোগিতার ভাব সৃষ্টি করে। আজকালকার মানুষ ভুলবশত যাকাতকে ট্যাক্স বলে মনে করছে। অথচ যাকাতের মূল ভাবধারা ট্যাক্সের ভাবধারা হতে সম্পূর্ণ পৃথক। যাকাতের আসল অর্থ হচ্ছে ক্রমবিকাশ ও পবিত্রতা দান। এ শব্দটি দ্বারা ইসলাম মানুষের মনে এই নিগূঢ় তত্ত্বের অনুভূতি জাগিয়ে দিতে চায় যে, আল্লাহর প্রেমে তুমি তোমার ভাইদেরকে যে আর্থিক সাহায্য করবে, তাতে তোমার আত্না উন্নতি লাভ করবে এবং তোমার চরিত্র পূত ও পবিত্র হবে।
চতুর্থ পন্থা হচ্ছে-হজ্জ।
এটা আল্লাহর ইবাদাতের কেন্দ্রস্থল। ঈমানদার ব্যক্তিদেরকে একত্র করে এক বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি করে। এবং এটা এমন আন্তর্জাতিক আন্দোলন পরিচালিত করে, যা দুনিয়ার কয়েক শতাব্দী কাল ধরে সত্যের প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইনশআল্লাহ ভবিষ্যতেও অনন্তকাল পর্যন্ত তা সত্যেরই প্রতিষ্ঠা করতে থাকবে।
Post new comment