মূলপাতা নিবন্ধ ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রা): জীবন ও কর্ম

সূচিপত্র

ভূমিকা
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর চরিত্র
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর আক্বীদাহ
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর শিক্ষা
জ্ঞানার্জনের জন্য সফর
তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ
তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ
তাঁর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি
তখনকার ধর্মীয় পরিস্থিতি
তাঁর সময়কার সামাজিক পরিস্থিতি
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর কর্ম
রচনাবলী
তাঁর লেখার বৈশিষ্ট
শিক্ষাদান
খুতবাহ বা ভাষণ প্রদান
ফাতওয়া প্রদান
অপসংস্কৃতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ।
কুরআন সুন্নাহর বর্ণনার ওপর বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের জবাবে ইবনুল কাইয়্যেম এর ভূমিকা
আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়া’তের আলিমদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতপার্থক্য ।
উপসংহার

 

 

 

 


ইমাম হাফিয ইবনুল কাইয়্যেম (রহ)ঃ জীবন ও কর্ম
ড. মুহাম্মাদ মতিউল ইসলাম

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله و الصلاة و السلام على رسول الله و على آله و صحبه أجمعين و بعد ؛
ভূমিকাঃ
জীবনী আলোচনা আল্লাহ তা’য়ালার একটি সুন্নাত। তিনি মহাগ্রন্থ আল্কুর’আনে যেমনি ভালো মানুষদের জীবনী আলোচনা করেছেন তেমনি খারাপ লোকদের জীবনীও আলোচনা করেছেন । এর একটি উদ্দেশ্য এটাও হতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দাহদের জীবন চলার পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে চললে প্রকৃত চলার পথের সন্ধান পাবো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে কাঙ্খিত জান্নাত লাভ করতে পারবো। এজন্য আমাদের সম্মানিত উলামায়ে কিরামের জীবন ইতিহাস জানার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে ।
হিজরি সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দির গোড়ার দিকে মুসলিম দুনিয়াতে যে কয়জন শ্রেষ্ঠ মনীষী জন্মগ্রহন করেছেন তাঁদের একজন হলেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম। তাঁর শিক্ষক ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) কে এ উপমহাদেশের লোকজন, বিশেষ করে উলামায়ে কিরাম যতটুকু জানেন বা চেনেন সে অনুপাতে ইবনুল কাইয়্যেমকে অনেকেই জানেন না। অথচ ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম ইসলামের খেদমতে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে কিয়ামাত পর্যন্ত। কিন্তু কে এই মনীষী ? ইসলামের জন্য কী তার অবদান ? এসম্পর্কে আমরা অনেকেই অবহিত নই। তাই তাঁকে জানার জন্য আমাদের এ’ক্ষুদ্র প্রয়াস। (আখিরাতে আল্লাহ আমাদেরকে এর বিনিময়ে জান্নাত দান করুন ) ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী :
তিনি মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ বিন হারিয বিন মাক্কী, যায়েনুদ্দিন আয্ যুর’য়ী আদ্দামেকী আল হাম্বালী। আল্হাফিয আবু আবদুল্লাহ, শাসছুদ্দিন । প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন ইবনু কাইয়্যেম আল্জাওযিয়াহ নামে। আবার অনেকেই তাঁকে ইবনুল্ কাইয়্যেম বলে থাকেন ।
তিনি ৬৯১ হিজরি, সফর মাসের ৭ তারিখে দামেশকে জন্ম গ্রহন করেছেন। তাঁর পিতা আবুবাকর বিন আইয়ুব বিন সাদ আয্যুরয়ী একজন বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন ছিলেন । বিশেষ করে ফারায়েজ বিদ্যায় ছিল তাঁর অসাধারণ পান্ডিত্ব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নেক্কার, ফরহেজগার, মেধাবী এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী খুব সাহসী একজন মানুষ । আবু বাকর বিন আইয়ুব দামেশকের আল্জাওযীয়াহ মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক ছিলেন। এজন্য তাকে কাইয়্যেম আল্জাওযিয়াহ বলা হতো । ৭২৩ হিঃ সনে জিলহাজ্জ মাসের নয় তারিখ রোববার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । পিতার মৃত্যুর সময় ইবনুল কাইয়্যেম একজন টগবগে যুবক ছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর ।
তাঁরা দুই ভাই ছিলেন । অপর ভাইয়ের নামঃ আবুল ফারাজ , আবদুর রাহমান বিন আবি বাকর বিন আইয়ুব বিন সাদ বিন হারিয । তিনি ৬৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ৭৬৯ হিজরিতে মৃত্যু বরণ করেন ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর দুই পুত্র সন্তান ছিল। দুজনই ছিলেন উত্তম পূর্বসূরির উত্তম উত্তরসূরি । প্রথম পুত্রের নাম : আবদুল্লাহ, জামাল উদ্দিন । তিনি ৭২৩ হিঃ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। নয় বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআ’ন হিফয করেন । তিনি একজন আলিমে দ্বীন ছিলেন, ফিকাহ শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ পান্ডিত্ব ছিল । মাত্র ৩৩ বছর বয়সে হিজরি ৭৫৬ সনে তিনি মৃত্যু বরণ করেন ।
ইবনুল কাইয়্যেমের দ্বিতীয় পুত্রের নামঃ ইবরাহীম, বুরহান উদ্দিন। তিনিও বড় মাপের আলিম ছিলেন। ফিকহ্ ও আরবী ব্যাকরণের উপর তাঁর যথেষ্ট দখল ছিল। তিনি ৭১৬ হিজরিতে জন্মগ্রহন করেন এবং ৭৬৭ হিজরিতে মৃত্যু বরণ করেন।
ইবনুল কাইয়্যেম (রা) এর চরিত্র :
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) অতি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও অত্যন্ত মিশুক ছিলেন, তাঁর সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ গুণীজনদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন । ইসলামের খেদমতে গোটা জীবন অতিবাহিত করেছেন । অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোসহীন, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর । সত্য বলতে কুন্ঠা বোধ করতেন না । ইসলামের পথে দাওয়াত দানকে রুটি রুজির হাতিয়ার হিসাবে গ্রহন করেননি । মানুষকে ভালোবাসতেন, এজন্য তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব । কাউকে কষ্ট দিতেন না , মানুষকে হিংসা করতেন না, তাঁর চেহারা ছিল সবসময় হাস্যোজ্জ্বল , অত্যান্ত সদালাপি ছিলেন । লেখাপড়া ও গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পরম আনন্দবোধ করতেন । তিনি নিজেই রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর ) একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,
"النَّهْمَةُ في العلم، وعدم الشبع منه من لوازم الإيمان، وأوصاف المؤمنين ..و أن هذا لا يزال دأب المؤمن حتى دخوله الجنة ولهذا كان أئمة الإسلام إذا قيل لأحدهم : إلى متى تطلب العلم ؟ فيقول : إلى الممات "
‘জ্ঞানের প্রতি আসক্তি ও জ্ঞানার্জন করে পরিতৃপ্ত না হওয়া ঈমানের সাথে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত এবং তা মুমিনের গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত একজন মুমিনের এটাই চরিত্র হওয়া উচিৎ । এজন্য ইসলামের ইমামদের কাউকে যখন জিজ্ঞাসা করা হতো, কতদিন পর্যন্ত জ্ঞান অনুসন্ধান করবেন ? উত্তরে বলা হতো, মৃত্যু পর্যন্ত ।
ইবনুল কাইয়্যেম গবেষণায় সত্য অনুন্ধানী ছিলেন। কুরআন সুন্নাহ ছিল তাঁর কাছে সত্যের আসল মানদন্ড ।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী । এরই ফলে হয়ত আল্লাহ তা’য়ালা ইসলামী উম্মার মাঝে তাঁকে এতোবড় সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। তার বিনয়ের একটি ঘটনাই এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি ।
ইবনে তাইমীয়াহ (রহ) এর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পূর্বে আশয়া’রিয়াহ সম্প্রদায়ের আকীদাহ দ্বারা ইবনুল কাইয়্যেম কিছুটা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু ইবনে তায়মীয়াহ (রহ) এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করার পর যখন তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছেন তখন নির্দ্বিধায় তা স্বীকার করেছেন। এবং তিনি মনে করতেন যে, ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) এর হাত ধরেই তিনি প্রকৃত ঈমানের সন্ধান লাভ করেছেন । তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আন্নূনিয়াহ’ তে এর স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে । তিনি বলেন,
فتى أتى من أرض حــران فيا أهلا بمن قد جاء من حران
فالله يجزيــه الذي هو أهـله من جنة المأوى مع رضوان
أخذتْ يداه يدي و سار فلم يرم حـتى أرانى مطـلع الإيمان
‘হার্রান শহর থেকে এক যুবক এসেছেন, সুস্বাগতম তাঁকে যিনি হাররান থেকে এসেছেন। আল্লাহ তাঁকে ঐ প্রতিদান দান করুন যে প্রতিদানের তিনি উপযুক্ত, (আশাকরি) তা হলো জান্নাতুল মাওয়া এবং তাঁর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। তাঁর দুহাত আমার দুহাত ধরে ঐ পর্যন্ত তা ছেড়ে দেয়নি যে পর্যন্ত আমাকে ঈমানের দিগন্ত না দেখিয়েছেন।
ইবনুল কাইয়্যেম অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন, জেল যুলুম তাঁকে সত্য বলা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি । জেল খেটেছেন অনেকবার। একবার জেল খেটেছেন এ’ মর্মে ফাতওয়া প্রদান করার কারণে যে , সাওয়াবের নিয়্যাতে সফরের প্রস্ত্ততি নিয়ে ইবরাহীম ( আ) এর কবর যিয়ারতে যাওয়া না জায়েয । আরেকবার তাঁকে জেলে নেওয়া হয়েছিল এ’কারণে যে , তিনি মনে করতেন কোন ব্যক্তি যদি এক সাথে তার স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করে তা হলে তা তিন তালাক না হয়ে এক তালাকে পরিণত হবে । ৭২৬ হিঃ সনে ইবনে তাইমিয়ার সাথে তাঁকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইবনে তাইমিয়ার মৃত্যুর পর ৭২৮ হিঃ সনে জেল থেকে মুক্তি পান। জেলে সময় কাটাতেন লেখা পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের মাধ্যমে । বিপদে অধীর না হয়ে জুলুম নিপীড়নের সামনে সুদৃঢ় থাকা সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন, الشجاعة: ثبات القلب عند النوازل وإن كان ضعيف البطش ""
‘বীরত্ব হলো বিপর্যয়, বিপদের সময় মন সুদৃঢ় থাকা, যদি সে শক্তি এবং ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বলও হয় ’ । তিনি অধিকাংশ সময় আল্লাহর ইবাদাতে মাশগুল থাকতেন। নিয়মিত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর আক্বীদাহ :
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম হাম্বালী মাযহাবের অনুসারি ছিলেন, তবে তিনি সালাফী আকীদায় বিশ্বাস করতেন। এর অর্থ হলো, কুরআন সুন্নাহ্র আয়নায় হাম্বালী মাযহাবের কোন মাস’য়ালা যদি দুর্বল বলে তাঁর কাছে প্রমাণিত হতো তা হলে তা পরিহার করে কুরআন সুন্নাহ্র আলোকে যে কথাটি সহীহ বলে প্রমাণিত হতো তা তিনি গ্রহন করতেন। যেমন, আদম (আ) কে যে জান্নাতে থাকতে বলা হয়েছিল এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করার ফলে যে জান্নাত থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে সে জান্নাত কোন জান্নাত? সেটি কি বিচার দিবসের পর মুমিনদেরকে চিরস্থায়ী যে জান্নাত দেওয়া হবে সে জান্নাত ? নাকি সেটি জমিনে তৈরী করা অস্থায়ী কোন জান্নাত বা বাগান ? এ নিয়ে আমাদের সম্মানিত ইমাম, উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বালের মত হলো, আদম (আ) কে আল্লাহ ত’ায়ালা যে জান্নাতে রেখেছেন এবং যেখান থেকে বের করে দিয়েছেন সেটি হলো চিরস্থায়ী জান্নাত । এ বিষয়ে ইমাম আবু হানীফা (রা ) এর মত হলো, সেটি চিরস্থায়ী জান্নাত নয় বরং আদম (আ) কে অস্থায়ী কোন জান্নাতে বসবাস করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি (আ) আল্লাহর আদেশ অমান্য করার ফলে এ অস্থায়ী জান্নাত থেকেই তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কুরআন সুন্নাহ্র আলোকে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার পর ইবনুল কাইয়্যেমের নিকট ইমাম আবু হানীফার মতটি ইেশ শক্তিশালী মনে হয়েছে। অর্থাৎ , ঐ জান্নাত ছিল অস্থায়ী জান্নাত , চিরস্থায়ী নয়। এসম্পর্কে তিনি বলেন ,
এটাই আমার কথা, এর অর্থ এই নয় যে, আমি ইমাম আবু হানিফার মাযহাবকে সমর্থন করছি। বরং কুরআন সুন্নাহ্র দলিলের ওপর নির্ভর করে আমি কথাটি বলছি।
তিনি একজন বড় মাপের আলিমে দ্বীন, মুজতাহিদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে হাম্বালী মাযহাবের অনুসারি বলা হতো। আবার কোন মাস’য়ালার দলিল প্রমাণ দুর্বল হওয়ার কারণে সেটি বাদ দিয়ে সহীহ কথাটির ওপর আমল করার কারণে তাঁকে হাম্বালি মাযহাবের বহির্ভূতও মনে করা হতো না।
তিনি কখনো কখনো নিজের শিক্ষক ইবনে তাইমিয়ার মতের সাথেও ভিন্নমত পোষণ করতেন। যেমন, সালাতের প্রথম রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত শুরু করার পূর্বে আউজুবিল্লাহ পড়তে হবে কী না ? এ বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) বলেছেন, আউজুবিল্লাহ পড়া মুস্তাহাব। কিন্তু ইবনুল কাইয়্যেম বলেছেন, আউজুবিল্লাহ না পড়াই উত্তম ।
তিনি মাযহাবের অন্ধ অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন । বিশেষ করে অন্ধ তাক্লীদের অসারতার উপর ‘‘ইয়’লামুল মুয়াক্কিয়ীন আন রাবিবল আলামীন’’ "إعلام الموقعين عن رب العالمين " নামক গ্রন্থে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছেন। যেমন, তিনি অন্ধ অনুসারীদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
وعياذاً بالله من شر مُقَلِّدٍ عَصَبِيّ، يرى العلم جهلاً، والإنصاف ظلماً، وترجيح الراجح على المرجوح عدواناً
‘বিচারবুদ্ধি প্রয়োগে উপায়হীন (মাযহাবের অন্ধ অনুসারি ) মুকাল্লিদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। সে ইলম্কে অজ্ঞতা, ইনসাফকে অত্যাচার এবং অধিকতর বলিষ্ঠ কথাকে দুর্বল কথার ওপর প্রাধান্য দেয়াকে বাড়াবাড়ি মনে করে ’
ইবনুল কাইয়্যেম অন্ধ তাকলীদকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন, তিনি বলেন, নাজায়েয বা হারাম তাকলীদ তিন প্রকারঃ
এক : আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা থেকে বিমুখ হয়ে এবং এর প্রতি দৃষ্টিপাত না করে বাপ-দাদার অনুসরণকে যথেষ্ট মনে করা ।
দুই : অনুসারি ( মুকাল্লিদ ) অনুসৃতের ( মুকাল্লাদের ) অবস্থা না জেনে এবং সে ব্যক্তি অনুসরণের যোগ্য কি না তা না বুঝে তার অনুসরণ করা ।
তিন : কোন বিষয়ে কুরআন সুন্নাহ্র সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ পাওয়ার পরেও এর বিপরিতে কারো তাকলীদ করা ।
মূলতঃ ইসলাম অন্ধ অনুসরণকে সমর্থন করেনা এবং এটাই হলো ইসলামের আসল দাবী । এমনটি হলেই প্রকৃত অর্থে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অনুসরণ করা হবে । যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً }
‘‘হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে আদেশদানকারী । তোমরা যদি কোন বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হও তা হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও । এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম’’ ।
এখানে বলে রাখা দরকার যে, মাযহাবের ইমামদের কথা দুর্বল হওয়ার কারণে তাঁদের কথার ওপর আমল না করে সহীহ কথাটির ওপর আমল করার ফলে মাযহাবের অনুসরণ থেকে বেরিয়ে যাওয়া হবে এমনটি বলা যাবে না; কারণ প্রত্যেক ইমাম বলে গিয়েছেন যে, আমার কথার বিপরিতে কুরআন সুন্নাহ্র সহীহ দলীল যদি পাওয়া যায় তাহলে সেটিই হবে আমার পথ ও আমার কথা। যেমন, ইমাম আবু হানিফা (রা) বলেছেন, " إذا صح الحديث فهو مذهبي " (আমার কথার বিপরিতে ) ‘যদি হাদীস সহীহ হয় তা হলে সেটিই আমার মাযহাব’ ।
ইমাম আবু ইউসূফ (রহ) ছিলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর একজন ছাত্র ও তাঁর অনুসারী হানাফি মাযহাবের অন্যতম ইমাম, কিন্তু যখনই তিনি ইমাম আবু হানিফার কথার বিপরিতে কুরআন সুন্নাহ্র মযবুত দলিল পেয়েছেন তখনই তিনি সে কথাকেই গ্রহণ করেছেন। তাই বলে তিনি হানাফি মাযহাব থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন এমনটি বলা যাবে না।
ইবনুল কাইয়্যেম ( রহ ) এর শিক্ষা:
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, ইসলামের প্রায় সকল বিষয়ের ওপর তার অসাধারণ পান্ডিত্ব ছিল। তিনি ছিলেন উঁচু মাপের একজন শিক্ষানবিশ, জ্ঞানপিপাসু। ছোট বেলা থেকেই জ্ঞানার্জনের অভ্যাস তার রক্তমাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল। ইবনে কাসীর (রহ) বলেন, ছোটকাল থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তাঁর খুব বেশী ঝোঁক ছিল । সকলের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। কাউকে হিংসা করা, ঘৃণা করা এবং কাউকে কষ্ট দেওয়া তাঁর চরিত্রের অংশ ছিল না। তিনি হাদীস শাস্ত্রের ওপর লেখাপড়া করেছেন। জ্ঞানার্জন করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পারদর্শিতা লাভ করেছেন। বিশেষ করে তাফসীর ও হাদীসের ওপর তাঁর যথেষ্ট পান্ডিত্ব ছিল। ৭১২ হিঃ সনে ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) মিশর থেকে দামেশকে আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ইসলামের প্রায় সকল বিষয়ের ওপর দিক্ষা লাভ করেছেন। এতে করে তিনি তাঁর সমসাময়িক শিক্ষা জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন ।
তাঁর ছাত্র ইবনু রজব বলেন, তিনি মাযহাব সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন এবং পান্ডিত্ব লাভ করেন। তিনি মুফতী ছিলেন। ফাত্ওয়া প্রদান করতেন। ইবনে তাইমিয়ার সংস্পর্শে এসে ইসলামের অনেক বিষয়ে পান্ডিত্ব লাভ করেছেন। তাফসীর করতেন, তাফসীরে তাঁর কোন জুড়ি ছিলনা। এছাড়া হাদীস, ফিকহ্ ,উসূলে ফিকহ্ এর ওপর অসাধারণ জ্ঞান রাখতেন.. তিনি ছিলেন খুব বেশি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী, অত্যন্ত বিনয়ী। সেই কালে কুরআন সুন্নার এতবড় আলেম অন্য কেউ ছিল বলে আমার জানা ছিল না ।
আশ্-শায়েখ মুহাম্মদ রশীদ রিদা (রহ) বলেন, তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) এর কর্ম ও সৎগুণাবলীর মধ্যে তাঁর ছাত্র ইবনু কাইয়্যেম আল্জাওযিয়াহ -যিনি অসংখ্য গ্রন্থের প্রণেতা ছিলেন এবং যার থেকে উপকৃত হয়েছে তাঁর মতাদর্শীরা ও তাঁর বিরোধীরা-তিনি ব্যতীত যদি তাঁর আর অন্য কোন কর্ম নাও থাকে তা হলে এটাই ইবনে তাইমিয়ার মহত্ব ও শ্রেষ্টত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
জ্ঞানার্জনের জন্য সফর :
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম ছোট কাল থেকেই জ্ঞানানুসন্ধানি ছিলেন। সাত বছর বয়সে দামেশকের প্রসিদ্ধ আলিম আশ্শিহাবুল আ’মের (রহ) (মৃত্যু ৬৯৭ হি:) এর ইলমী হালকা বা দ্বীনি আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন এবং সে আলোচনা সভার তিনি শ্রেষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি মিশর সফর করেছেন । এসম্পর্কে তিনি নিজেই তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘ইগাসাতুল্ লাহফান’ এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন,
وذاكرتُ مرةً بعض رؤساء الطب بمصر بهذا فقال : والله لو سافرت إلى الغرب في معرفة هذه الفائدة لكان سفرا قليلا .
‘‘ একবার আমি মিশরে একজন প্রসিদ্ধ চিকিৎসা বিজ্ঞানির সাথে এ বিষয়ে (হার্ট ও দেহের চিকিৎসা সম্পর্কে ) আলাপ আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, এর উপকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য যদি তুমি সুদূর মরক্কো পর্যন্তও সফর কর তা হলে তোমার সফরকে ছোট-খাট সফরই বলতে হবে ’’ । এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি মিশর পর্যন্ত সফর করেছেন । তবে মিশর ছাড়া অন্য কোথাও ইলম অর্জনের জন্য সফর করেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। শেখ বাকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়িদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সঠিক সূত্রে তাঁর শিক্ষা সফর সম্পর্কে এর চাইতে আর বেশি কিছু জানা যায়নি। তবে শিক্ষার জন্য তাঁর অন্য কোথাও সফর না করার যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণও আছে। তন্মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, তাঁর সময়ে ইসলামী পুস্তক বা কিতাব পত্রের কোন অভাব ছিলনা, ইসলামী দুনিয়ার সর্বত্রই এ সমস্ত বইপুস্তক মুদ্রিত ছিল। বিশেষ করে দামেশক তখন জ্ঞান বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল । আলিমগন জ্ঞান চর্চার জন্য দামেশকেই সফর করতেন। জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের সফরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দামেশক। এ জন্যই হয়ত ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) শিক্ষার উদ্দেশ্যে অন্যত্র সফর করেননি । বিশেষ করে ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) যখন মিশর থেকে দামেশকে চলে আসেন তখন ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) তাঁর সান্নিধ্যে থেকেই জ্ঞান চর্চায়া ব্রতী হন।

তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ :
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ ) এর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের তালিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. বাকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ মোট একুশ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন,
এক : তাঁর পিতা, আবু বাকর বিন আইয়ুব। শিক্ষা জীবনে সর্বপ্রথম পিতার নিকট তিনি হাতেখড়ি নেন । ফারায়েজ শাস্ত্রে তাঁর পিতার অসাধারণ পান্ডিত্ব ছিল। পিতার নিকট থেকে বিশেষ করে এ বিষয়ের ওপর তিনি যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন ।
দুই : আবু বাকর ইবনুল মুসনাদ, আহমদ বিন আবদুদ দা’য়েম (রহ) (মৃত্যু: ৭১৮ হি :) ।
তিন : শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) (মৃত্যু: ৭২৮ হি : )
ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) এর সাথে ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর সাক্ষাতের বিষয়ে সকল লেখক একমত যে, ইবনে তাইমিয়াহ মিশর সফর করে ৭১২ হিজরিতে দামেশকে আসেন। এখানেই তাঁদের দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকে ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) এর মৃত্যু পর্যন্ত একাধারে ষোল বছর ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি যে ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) এর প্রতিটি কথাকে আত্মস্থ করে রাখতেন তার একটি ছোট্ট উদাহরণ এখানে পেশ করা হলো। যেমন , তিনি বলেন,
وسمعتُ شيخَ الإسلام ابن ةيمية (قدس الله روحه ونور ضريحه ) يقول : مررت أنا و بعض أصحابي في زمن التتار بقوم منهم يشربون الخمر فأنكر عليهم من كان معي . فأنكرت عليه وقلت له : إنما حرم الله الخمر لأنها تصد عن ذكر الله وعن الصلاة وهؤلاء يصدهم الخمر عن قتل النفوس وسبئ الذرية وأخذ الأموال فدعهم .
‘আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহকে (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) বলতে শুনেছি , তিনি বলেন, তাতারীদের সময় একবার আমি এবং আমার এক বন্ধু কয়েকজন তাতারী লোকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ঐ সময় তারা মদপান করছিল। আমার সাথী তাদেরকে মদপান করতে নিষেধ করল। আমি তাকে বাধা দিয়ে বললাম, আল্লাহ মদ হারাম করেছেন, কেননা মদ মানুষকে সালাত ও আল্লাহর যিকর থেকে বিরত রাখে। আর মদ এদেরকে মানুষ হত্যা থেকে, সন্তানদেরকে বন্দী করতে ও অন্যায় ভাবে সম্পদ আহরণ করতে বিরত রাখছে। অতএব তাদেরকে এর ওপরই ছেড়ে দাও ।
চার : আস্শিহাবুল আবের, আবুল আববাস আহমাদ বিন আবদুর রহমান (রহ) (মৃত্যু: ৬৯৭ হি:)
পাঁচ : ইবনুস্ সীরাজী , যায়েনুদ্দিন , ইবরাহীম বিন আবদুর রহমান (মৃত্যু:৭১৪ হি:)
ছয়: আল্-মাজদ, ইসমাইল মাজদুদ্দিন বিন মুহাম্মাদ। (মৃত্যু: ৭২৯ হি:)
সাত : ইবনে মাক্তূম, ইসমাইল সদরুদ্দিন আবুল ফিদা বিন ইউসুফ বিন মাকতুম (মৃত্যু: ৭১৬ হি:)
আট : আল্ কুহ্হাল, আইয়ুব, যায়েনুদ্দিন বিন নিয়’মাতুন নাবুলসী। (রহ) (মৃত্যু: ৭৩০ হি :)
নয় : আল্-মিয্যি, ইউসূফ জামালুদ্দিন , বিন যাকিউদ্দিন আবদুর রহমান। (রহ) (মৃত্যু: ৭৪২ হি :)
দশ : আল্ হাকিম,সুলায়মান তাকিউদ্দিন আবুল ফাদল্ বিন হামযাহ। (রহ) (মৃত্যু: ৭১৫ হি :)
এগার: শরফুদ্দিন ইবনু তাইমিয়াহ, আবদুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ বিন আবদুল হালীম বিন তাইমিয়াহ (রহ) (মৃত্যু: ৭২৭ হি :)
বার : ইবনুল মুফলিহ , মুহাম্মাদ শামছুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ বিন মুফলিহ বিন মুহাম্মাদ আল মাকদাসী (রহ) (মৃত্যু: ৭৬৩ হি :) ।
তের : আল মুতায়ে’ম, ঈসা শরফুদ্দিন বিন আবদুর রহমান (রহ) (মৃত্যু: ৭১৯ হি :)
চৌদ্দ: বিনতু জাওহার , ফাতিমাহ, উম্মু মুহাম্মাদ বিনতু আশ্ শায়েখ ইবরাহীম বিন মাহমুদ (রহ) (মৃত্যু: ৭১১ হি :) ইনি ছিলেন দামেশকের একজন হাদীস বিশারদ মহীয়সী নারী। ইবনু রজব বলেছেন, ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন ।
পনের: আল্বদর বিন জামা’য়াহ, মুহাম্মাদ আল্কাদী, বদরুদ্দিন বিন ইবরাহীম বিন জামা’য়াহ আল্কিনানী (রা) (মৃত্যু: ৭৩৩ হি :)
ষোল : আবুল ফাতাহ আল্ বা’য়লাবাক্কী মুহাম্মাদ শামছুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ বিন আবুল ফাতহ্ (রহ) (মৃত্যু: ৭০৯ হি:)
সতের : আস্ছফি আল্হিন্দি, মুহাম্মাদ ছফিউদ্দিন বিন আবদুর রহীম (রহ) (মৃত্যু: ৭১৫ হি :)
আঠার: আয্- যমলকানী, মুহাম্মদ আবুল মু’য়ালী কামালুদ্দিন বিন আলী বিন আবদুল ওয়াহিদ আল আনসারী (রহ) (মৃত্যু: ৭২৭ হি :)
ঊনিশ: আলাউদ্দিন আল কিনদি আল ওয়াদি’য় ।
বিশ: আল্ বাহা ইবনু আসাকির (রহ)।
একুশ: মাজদুদ্দিন আত্তূনেসী ।
তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষানবিশ হিসাবে ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) এর সান্নিধ্য পেয়ে তিনি যেমন ধন্য হয়েছেন তেমনি ইবনু কাসীরের মত বিশ্বখ্যাতি অর্জনকারী আলিম, মুহাদ্দিস ও মুফাস্সিরদের শিক্ষক হয়েও তিনি সৌভাগ্যবান হয়েছেন। তৎকালীন সময়ে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জনকারী অনেক বিদ্যানের তিনি শিক্ষক ছিলেন, তন্মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েক জনের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো ।
এক: ইমাদ উদ্দিন, আবুল ফিদা, ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর আল্কুরাশী ( মৃত্যু ৭৭৪ হি: )।
দুই: ইবনু রজব, আবদুর রহমান যায়েনুদ্দিন আবুল ফারাজ বিন আহমাদ বিন আবদুর রহমান আল হাম্বালী । ( মৃত্যু ৭৯৫ হি : )
তিন : আস্সুবকী, আলী বিন আবদুল কাফী বিন আলী বিন তামাম আস্সুবকী, তাকী উদ্দিন আবুল হাসান । ( মৃত্যু ৭৫৬ হি: )
চার : আয্যাহাবী, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আয্যাহাবী আত্তুরকেমানী। ( মৃত্যু ৭৪৮ হি:)
পাঁচ: আন্নাবুলসী, মুহাম্মাদ শামছুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ বিন আবদুল কাদের বিন মহীউদ্দিন উসমান আন্নাবুলসী। (মৃত্যু ৭৯৭ হিঃ )
ছয়: আল্ফাইরোজ আবাদী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মাদ মহীউদ্দিন আবু ত্বাহের আল্ফাইরোজ আবাদী । (মৃত্যু ৮১৭ হিঃ )
তাঁর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি :
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) জন্মগ্রহণ করেছেন ৬৯১ হিঃ সনে। এর প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পূর্বে মুসলিম দুনিয়ার পতন ঘটে মুঘলদের হাতে। অর্থাৎ, ৬৫৬ হিজরিতে মুঘলদের হাতে অববাসীয় খিলাফাতের পতন হয়। এ পতনের বহু কারণের মধ্যে একটি কারণ ছিল, সে সময়কার মীর জাফরদের চক্রান্ত। আমরা আজকাল মোশারফ ,কারযায়ী, নূরী মালেকীদের মত মীর জাফরদের কর্মকান্ড দেখে হতবাক হচ্ছি, ক্ষমতার জন্য পরাশক্তির কাছে মাথা- মগজ বিক্রি করে নিজ জাতিকে নির্বিচারে হত্যা, নিজ দেশের মাটি ও মানুষের সাথে গাদ্দারি, সার্বভৌমত্ব ও পতাকাকে ভূলুন্ঠিত করতে দেখে আমরা আশ্চর্য বোধ করছি। দুর্ভাগ্যবশতঃ যুগে যুগে এধরনের মুখোশধারি মুনাফিকরাই মুসলমানদের পতনের জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। ‘নামধারী এইসব মুসলমানরা অবশ্য ইতিহাসের নতুন কোন জাতক নয়। মুনাফিকরা তো মুসলমানদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। এদের নামে ভিন্নতা থাকলেও চরিত্র এক। এদের চিনতে আমাদের ভুল হয় না, মীরজাফর চরিত্রের লোক এখনো আমাদের সমাজে বিচরণ করছে। তবে ট্রাজেডি হলো এরা না স্বজাতির বন্ধু, না নিজের । এদের কর্মদোষে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেরাও। এরা শুধু জাতির নয়, নিজেরও শত্রু। খলিফা আল্-মুস্তায়’সিম বিল্লাহ (৬৫৬ হিঃ মৃত্যু) ছিলেন আববাসী খিলাফাতের শেষ খলিফা। খালিফার প্রধান সেনাপতি ছিলেন মুজাহিদুদ্দিন আইবেক, দোয়াতদার (মৃত্যু ৬৫৬ হিঃ)। এক সময় তিনি খালিফাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মুজাহিদুদ্দিন সফলকাম হতে পারেননি । অপর দিকে খালিফার বিশিষ্ট মন্ত্রি ছিলেন মুয়াইয়েদ উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আল্আলকামী (মৃত্যু ৬৫৬ হিঃ)। খালিফা আলমুসতা’য়সিম ও সেনাপ্রধান মুজাহিদুদ্দিন ছিলেন সুন্নি সম্প্রদায়ের লোক আর আলকামী ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোক। তখন বাগদাদ ছিল সুন্নি প্রভাবিত এলাকা, অন্যদিকে কারখ (الكرخ ) ছিল শিয়া প্রভাবিত এলাকা। সিয়া সুন্নিদের দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে আলকামী এই বলে শিয়াদেরকে আশ্বস্ত করল যে, সময়মত সে সুন্নিদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহন করবে। তার চক্রান্তের অংশ হিসাবে একদিকে খালিফাকে এই বলে পরামর্শ দিল যে, খালিফার এত বিশাল সেনাবাহিনী না রেখে সৈন্য সংখ্যা হ্রাস করে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা হালাকুর জন্য পাঠালে সে ইরাক আক্রমন থেকে বিরত থাকবে। অপর দিকে আল্কামী গোপনে হালাকুকে ইরাক আক্রমণে উৎসাহ প্রদান করল এবং এ ব্যপারে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিল। বিনিময় চেয়েছিল ইরাকের প্রতিনিধিত্ব হালাকু তার হাতে ছেড়ে দেবে। এই মর্মে সে তার ভৃত্য ও তার আপন ভাইকে হালাকুর নিকট প্রেরণ করল। পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই। শুধু এতটুকু বলে রাখাই যথেষ্ট যে, এরই ফলশ্রুতিতে ৬৫৬ হিঃ সনে মুসলিম দুনিয়ার কেন্দ্রিয় শাসনের পতন ঘটল।
বাগদাদের পতনের পর মুগলরা সিরিয়া দখল করে। সিরিয়া দখলের পর যখন তারা মিশরের দিকে তাদের আগ্রাসী হাত বাড়াল তখন ৬৫৮ হিঃ সনে মিসরের সুলতান আল্ মালিক মুযাফ্ফার কিতয্ (রহ) এর হাতে তাতারীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। এর ফলে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্মান পুনরুজ্জীবিত হয়। তাতারীদের পতনের পর মিশরের সাথে সিরিয়াও মামলুকী শাসনের অধীনে চলে আসে ।
অপরদিকে বিগত দুই শত বছর যাবত মুসলিমদের সাথে খৃস্টান ক্রুসেডারদের প্রায় অনবরতই যুদ্ধবিগ্রহ চলছিল। বিজয় কখনো মুসলিমদের পক্ষে ছিল কখনো খৃস্টানদের পক্ষে ছিল। তবে সর্বশেষ ৬৯০ হিঃ সনে আল্-মালিক আল্-আশরাফ, খলীল বিন ক্বালাউনের নেতৃত্বে মুসলিমদের দখলকৃত সমস্ত এলাকা ইউরোপিয়ানদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করা হয় এবং তাদেরকে মুসলিম দুনিয়া থেকে বিতাড়িত করা হয়। তবে মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোলাটে ছিল; কারণ ক্ষমতার মসনদ দখল করার প্রতিযোগিতায় ৬৪৮ হিঃ থেকে ৬৮৪ হিঃ পর্যন্ত ছয়ত্রিশ বছরে মামলুকি শাসকদের ঊনত্রিশ জন শাসককে ক্ষমতার মসনদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এদের অধিকাংশই নিহত হন।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) ঐ সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। তিনি মুসলিম জাতির দুর্দশা নিয়ে চিন্তাও করতেন। এর সত্যতা তাঁর লেখনিতে পাওয়া যায় । যেমন, শি’য়াদের চক্রান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা আহলুস্সুন্না্হ ও শি’য়া রাফেদী উভয় দলের কাজের ফলাফল প্রত্যক্ষ করেছি এবং এই ফলাফলই প্রমাণ করে উভয় দলের মধ্যে কারা সত্যপন্থী । আমরা দেখেছি, আল্লাহর রাসূলের সাহাবাগণ কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে অনেক দেশ জয় করেছেন এবং অমুসলিম দেশগুলো ইসলামী দেশে পরিণত করেছেন। তাঁরা আল্ কুরআনের জ্ঞান ও হিদায়াতের মশাল জেলে মানুয়ের হৃদয় জয় করেছেন, তাঁদের এসমস্ত কাজের ফলাফল প্রমাণ করে যে, তাঁরাই ছিলেন সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে সর্বযুগে সব জায়গাতে শিয়া রাফেদীদেরকে দেখেছি এর সম্পূর্ণ উল্টো । আমরা দেখেছি যখনই মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন শত্রু অস্ত্রধারণ করেছে শি’য়া রাফেদীরা তাদের সহযোগী হয়ে ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে তারা অনেক বিপদ টেনে এনেছে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর এদের কারণেই তো মূর্তি পূজারি মুশরিক, হালাকু খাঁ ও তার সৈন্যদের তলোয়ারের আঘাতের বিপর্যয় নেমে এসেছিল মুসলিম উম্মার ওপর। তখন মসজিদসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে কুরআন পোড়ানো হয়েছে, আলিমদেরকে,দ্বীনদার সাধারণ মুসলিমদেরকে, বিশেষ করে মুসলিম খালিফাদেরকে হত্যা করা হয়েছ একমাত্র এদের ষড়যন্ত্রের ফলেই, সর্বসাধারনের নিকট এ বিষয়গুলো সুস্পষ্ট।
তখনকার ধর্মীয় পরিস্থিতি :
দুনিয়ার কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় যখন অধিষ্ঠিত ছিল মুঘলরা তখনও বিভিন্ন প্রদেশের প্রাদেশিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল মুসলিমরা । এসময় মুসলিম দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকার ফলে জনগণের মধ্যে অনৈক্য, জিহাদী জযবার পরিবর্তে অনেক মানুষ ঝুঁকেপড়ে সুফিবাদের দিকে, কুরআন সুন্নাহর অনুসরণের চাইতে মাযহাবসমূহের অন্ধ অনুসরণ প্রাধান্য পায় উলামায়ে কিরাম ও সাধারণ মানুষের নিকট । অবস্থা এমন নাজুক পর্যায়ে গিয়েছিল যে, সিরিয়ার রাজধানি দামেশকে ‘আল্ জামেয়’ আলউমাভী’ বা উমাভী জামে মসজিদে প্রত্যেক মাযহাবের জন্য একজন করে ইমাম নির্দিষ্ট ছিল। প্রত্যেক মাযহাবের লোক নিজস্ব মাযহাবের ইমামের পেছনে সালাত আদায় করত এবং প্রত্যেক মাযহাবের ইমামের জন্য সুনির্দিষ্ট মেহরাব ছিল ।
শি’য়া, রাফেদী, খারেজি, বাতেনী, মু’তাজিলা ও জাহমিয়াহ সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’য়াতের দ্বন্দ্ব ছিল তখন একেবারে তুঙ্গে। বিশেষ করে আববাসী খিলাফাতের সময় মু’তাজিলা ও শিয়া সম্প্রদায়ের অনেক লোক উচ্চপদস্থ সরকারী দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। তারা তাদের এই প্রভাবকেও নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে এসময় ইসলামী আক্বীদাহ সংক্রান্ত বিষযগুলো যেমন, কুরআন আল্লাহর কালাম না কি আল্লাহর সৃষ্টি , আল্লাহর অস্তিত্ব , তাঁর সত্ত্বা ও সীফাত . . ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক, বাদ-প্রতিবাদই ছিল যেন মুসলিদের নিত্যদিনের প্রধান কাজ এবং সাধারণ জনসাধারণ এর ফলে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছিল দারুণভাবে । এসময় ছিল সূফিবাদের স্বর্ণযুগ। আমীর- ওমারা ও ক্ষমতাসীনরা সূফিবাদকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা প্রদান করতেন । সূফীদেরকে আর্থিক ভাবেও সাহায্য করা হতো, এমনকি সুলতান আয্-যাহের বাইবাসের এক জন সুনির্দিষ্ট পীর ছিল, নাম হলো আল খাদির বিন আবি বাকর আল আদাভী । সুলতান বাইবাস তাকে সীমাতিরিক্ত সম্মান করতেন । সপ্তাহে দু’একবার তার খানকায় যেতেন । অধিকাংশ সময় সফর কালে তাকে সাথে রাখতেন । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে তার নিকট পরামর্শ চাইতেন ।
জ্যোতিষী, ভেলকীবাজ ও গণকদের দৌরাত্ম্যও এসময় খুব ব্যাপৃতি লাভ করে । তাদের উৎপীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, ৭৩৩ হিঃ সনে সুলতানের সহযোগিতায় জ্যোতিষীদেরকে ধরে নিয়ে ( মিশরের রাজধানি ) কায়রোর গভর্ণনের নিকট সোপর্দ করা হয়, তিনি তাদেরকে উত্তমরূপে শায়েস্তা করেন ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) তাঁর ক্ষুরদার লেখনির মাধ্যমে এ এসমস্ত ফিতনার মুকাবিলায় যে অবদান রেখে গেছেন ইসলামের ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে ।
তাঁর সময়কার সামাজিক পরিস্থিতি :
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর জন্মের পূর্বথেকেই যুদ্ধবিগ্রহ, ক্ষমতার জন্য দ্বন্দ্ব-সংঘাত ইত্যদি সবকিছু মিলে সমাজের পরিস্থিতি ছিল অশান্ত। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ছিলনা। মারামারি ও কাটাকাটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ও ইজ্জত সম্মান রক্ষার্থে অনেক মানুষ নিজের আবাস ভূমি ছেড়ে দেশের অন্যত্র হিজরাত করতে বাধ্য হয়। খাদ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্যবসা বাণিজ্যে ছিল মন্দাভাব। অর্থনীতিক দিক থেকে জনগণের মধ্যে কোন ভারসাম্য ছিল না। আমীর -ওমারাদের নিকট ছিল সম্পদের পাহাড়। তাদের স্বার্থেই সেনাবাহিনীর লোকদের কিছুটা সুযোগ সুবিধা দেয়া হতো। আলিমগণ বিত্তবৈভবের মালিক না হলেও আমীররা তাদেরকে সম্মানের চোখে দেখতেন। অপরদিকে কৃষক শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবন মান ছিল দারিদ্রসীমার নিচে। তাদের পরিশ্রমের ফসল ভোগ করতো সমাজের বিত্তবান লোকেরা। এরপরেও সাধারণ লোকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের করারোপ করা হতো। যেমন, ৭১১ হিঃ তে এই মর্মে দামেশকের লোকদের ওপর সরকারি ফরমান জারি করা হয় যে, দামেশক্ থেকে সেনা বাহিনীতে পনেরশত অশ্বারোহী এবং প্রত্যেক অশ্বারোহীর জন্য ৫০০ দিরহাম কর দিতে হবে। এছাড়া তখন বিভিন্ন সম্পদের ওপরও করারোপ করা হয়। সমাজে ঘুষের প্রচলনও শুরু হয় অধিক হারে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঘুষও লেনদেন হতো। এর ফলে যোগ্য ব্যক্তিদের যোগ্যতার মূল্যায়ন না করে অযোগ্য ব্যক্তিদেরকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হতো। অর্থ সম্পদ অর্জনের জন্য মানুষ বিভিন্ন অবৈধ কৌশল অবলম্বন শুরু করে। এমনকি এপথ ধরে নারী পুরুষের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কও গড়ে উঠে। নারীদের চলা ফেরায় বেপর্দা ও অশালিনতাও কিছুটা পরিলক্ষিত হয়। সবকিছু মিলে সমাজের মানুষ নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছিল, চুরি ডাকাতি বেড়ে গিয়েছিল। অনাবৃষ্টির ফলে খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদন কমে যায়। এতে করে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ৭৪৩ হিজরীর জিলহজ্ব মাসে খাদ্য দ্রব্যের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়, সামান্য রুটি পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার ছিল, কোথাও রুটির চুলা দেখলে মানুষ এর চারপার্শে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কোথাও কোথাও আটা ও যবের সাথে গমের খোশা বা কাঠের গুড়া মিশিয়ে রুটি তৈরী করা হতো। অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে চার দিকে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও মহামারী দেখা দেয় এবং ৭৪৯ হিজরিতে মহামারীর ফলে বহুলোক মারা যায়। ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর যাদুল মায়াদ গ্রন্থে ‘আত্ত্বাউন’ বা ‘মহামারী’ শিরোনামে একটি অধ্যায় রচনা করেন।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর কর্মঃ
ইবনুল কাইয়্যেম ( রা ) ৬৯১ হিঃ সনে জন্ম গ্রহন করেছেন এবং ৭৫১ হিঃ সনে মৃত্যু বরণ করেছেন। আক্ষরিক অর্থে তিনি মাত্র ষাট বছর হায়াত পেয়েছেন । তবে প্রকৃত অর্থে তাঁর এবং তাঁর মত অন্যান্য মনীষীদের হায়াত ছিল আল্লাহর রহমত ও বরকতে ভরপুর । তাঁরা অনেক বিত্ত বৈভবের মালিক ছিলেন না, কিন্তু আল্লাহর দ্বীনের জন্য নিরলস ও একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার ফলে দুনিয়া জোড়া সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করতে পেরেছেন । ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) ইসলামের খেদমতে যে সমস্ত কাজ করেছেন তন্মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযাগ্য হলোঃ
তাঁর রচনাবলী
ইবনুল কাইয়্যেম শুধু লেখনির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর লাইব্রেরীগুলোকে যে ভাবে সমৃদ্ধ করেছেন তা কিয়ামাত পর্যন্ত ইতিহাস হয়ে থাকবে । তিনি তাঁর কর্মের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। এই মনীষীর জীবনের আসল সৌন্দর্য ও পূর্ণতার প্রকৃতরূপ হলো তাঁর রচনাবলী। তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় একশতেরও বেশি। প্রতিটি বই হিদায়াতের এক একটি মশাল।
ড. বাকর আবদুল্লাহ আবু যায়েদ বলেন, যদি মনে করা হয় যে, ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) শুধু ‘যাদুল মা’য়াদ ফী হাদ্য়ে খাইরিল ইবাদ’ ( زاد المعاد في هدي خير العباد ) ও ‘ই’য়লামুল মুয়াক্ক্কেয়ীন আন্ রাবিবল আ’লামীন’( إعلام الموقعين عن رب العالمين ) এ’ দুটি বই ব্যতীত তিনি আর অন্য কোন বই রচনা করেননি তা হলেও বলা যাবে যে, তাঁর রচিত এ’বই দুটি আমাদের জন্য যথেষ্ট । অথচ ছোট বড় তাঁর অসংখ্য বই দ্বারা ভরপুর হয়ে আছে ইসলামী লাইব্রেরীগুলো, যার সংখ্যা হবে কমপক্ষে একশতের ওপর । শুধু সফর অবস্থায় তিনি পাঁচটি বই লেখেছেন, সেগুলো হলো ঃ
ক : মিফতাহু দারিস সায়াদাহ । مفةاح دار السعادة ) )
খ : রাওদাতুল মুহিব্বীন ওয়া নুযহাতুল মুশতাক্কীন । روضة المحبين و نزهة المشتقين) )
গ : যাদুল মা’য়াদ ফী হাদ্য়ে খাইরিল ইবাদ । زاد المعاد في هدي خير العباد) )
ঘ : বাদা’য়ীউল ফাওয়াইদ بدائع الفوائد) )
ঙ : তাহজীবু সুনানি আবি দাউদ تهذيب سنن أبي داود) )
ড. বাকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়ীদ, তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আত্তাক্রীব লি ফিকহ্ ইবনু কাইয়্যেম আল্জাওযিয়্যাহ’ বইতে আরবী বর্ণমালা ক্রমানুসারে ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর রচিত মোট ছিয়ানববইটি বইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন । প্রথমটি হলো ‘আল্ ইজতিহাদ ওয়াত্ তাকলীদ’ الاجتهاد و التقليد এবং সর্বশেষটি হলো ‘হিদায়াতুল হাইয়ারা ফী আজ্ওবাতিল ইয়াহুদ ওয়ান নাসারা’ هداية الحيارى في أجوبة اليهود و النصارى ।
তাঁর সমস্ত বইয়ের নাম উল্লেখ করতে গেলে প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি হয়ে যাবে বিধায় এখানে পাঠককে এতটুকু ধারণা দেয়াই যথেষ্ট মনে করছি ।
তিনি বড় মাপের একজন মুফাসসির ছিলেন, তবে তাফসীরের ওপর সুনির্দিষ্ট কোন কিতাব তিনি লিখে যাননি । বিক্ষিপ্তাকারে বিভিন্ন গ্রন্থে কুরআনের কিছু কিছু আয়াতের ওপর যে বিশদ ব্যাখা প্রদান করেছেন তা থেকে তাফসীরের ওপর যে তাঁর অসাধারণ পান্ডিত্ব ছিল তা ফুটে উঠে । যেমন তিনি তাঁর ‘‘ মাদারিজুস্ সালেকীন ’’ নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে তাওহীদ অধ্যায়ে
{شَهِدَ اللّهُ أَنَّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ وَالْمَلاَئِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ }
এই আয়াতটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে প্রায় ত্রিশ পৃষ্ঠার মত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, এতে বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল, বিশেষ করে তাওহীদের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন । তাফসীরের ক্ষেত্রে তাঁর এই বিরাট অবদানের বিষয়টি চিন্তা করে শায়েখ মুহাম্মাদ ওয়াইস আন্নাদাভী বহু চেষ্টা সাধনা করে ইবনুল কাইয়্যেম (রা ) এর গ্রন্থগুলোতে যেখানে যেখানে কুরআ’নের আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে সেগুলোকে একত্র করে ‘আত্-তাফসীর আল্-কাইয়্যেম লি - ইবনিল কাইয়্যেম ’ নামে এক খানা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন । তবে এটি কুরআনের ধারাবাহিক কোন তাফসীর নয় । তাফসীরের ক্ষেত্রে তিনি মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত তাফসীরের কঠোর সমালোচনাও করেছেন । এসম্পর্কে ড. মুহাম্মাদ হুসাইন আয্যাহাবী বলেন, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেমও মু’তাজেলীদের তাফসীরের কঠোর সমালোচনা করেছেন । তিনি তাদের তাফসীর সম্পর্কে বলেছেন ,
"إنه زُبالة الأذهان، ونخالة الأفكار، وعفار الآراء، ووساوس الصدور، فملأوا به الأوراق سواداً، والقلوب شكوكاً، والعالم فساداً، وكل مَن له مسكة من عقل يعلم أن فساد العالم إنما نشأ من تقديم الرأى على الوحى، والهوى على العقل".
‘এটা হলো তাদের মস্তিষ্কের বর্জ, জঞ্জাল , চিন্তা ও মতামতের নির্যাস , এসমস্ত বাজে কথা দ্বারা তারা শুধু কাগজকে কালো করেছে এবং মানুষের মনে সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করে দুনিয়াতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে । যে ব্যক্তির মধ্যে সামান্যতম বিবেক আছে সে জানে যে, দুনিয়াতে বিপর্যয় শুরু হয়েছে মানুষের মতামতকে ওহীর ওপর প্রাধান্য দেয়ার কারণে এবং কুপ্রবৃত্তিকে বিবেকের ওপর স্থান দেয়ার কারণে’ ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) কুরআনিক সাইন্সের ওপর দুটি বই লিখেছেন । একটি হলো ‘আত্তিবইয়ান ফী আক্সামিল কুরআন’ التبيان في أقسام القرآن অপরটি হলো , ‘আমসালুল কুরআন’। أمثال القرآن । তিনি চিকিৎসক ছিলেন না , তবে ( রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) মানুষের মানসিক চিকিৎসা ও দৈহিক চিকিৎসা সম্পর্কে যে সমস্ত কথা বলে গিয়েছেন এর আলোকে তিনি ‘ আত্তিববুন নাবাভী’ الطب النبوي নামক এক খানা গ্রন্থ রচনা করেছেন । এ বইটি কি তিনি আলাদা ভাবে লিখেছেন? না কি এটি তাঁর ‘ যাইদুল মায়াদ ’ বইয়ের একটি অংশ এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
ইবনুল কাইয়্যেম উঁচু মানের একজন কবিও ছিলেন। তিনি একটি কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন , ‘আল্ক্বাফিয়াহ আশ্শাফিয়াহ ফী আল্-ইনতিছারি আ’লা আল্ফিরকাহ আন্ নাজিয়াহ’
" الكافية الشافية في الانتصار على الفرقة الناجية "
এই কবিতার প্রতিটি চরণ শেষ হয়েছে আরবী নূন ( ن ) বর্ণ দিয়ে। এ কারণে গ্রন্থখানি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ‘আন্ নূনিয়াহ ’ নামে । এতে কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫৯৪৯ টি ।
তাঁর লেখার বৈশিষ্ট :
একঃ ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর লেখার প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট হলো তিনি সকল বিষয়ে কুরআন সুন্নার দলীলকে অগ্রধিকার দিয়েছেন । তিনি বলেন,
দ্বীনের প্রতি বিনয়ী হওয়ার আসল পরিচয় হচ্ছে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে আগমন করেছেন সে অনুযায়ী চলা , এর সামনে আত্মসমর্পন করা ও বশ্যতা স্বীকার করা আর এজন্য প্রয়োজন হলো তিনটি কাজ করা ।
ক) যুক্তিতর্ক, কিয়াস,ভাব-আবেগ ও রাজনীতিক মতাদর্শ এই চারটি বিপরিতধর্মী বিষয়ের মাধ্যমে রাসূলের আনীত কোন বিধানের বিরোধিতা না করা ।
প্রথমটির অনুসরণ করে থাকে এক ধরনের কুটিল, অহংকারী দার্শনিক । তারা তাদের অসার যুক্তির দোহাই দিয়ে ওহীর জ্ঞানের বিরোধিতা করে থাকে। তারা বলে যে , যুক্তিতর্ক ও ওহীর জ্ঞান একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে আমরা যুক্তিতর্ককে অগ্রাধিকার দেবো ওহীর জ্ঞানের ওপর ।
দ্বিতীয়তঃ ফিক্হের অনুসারী একদল লোক আছেন যারা কিয়াস ও ওহীর জ্ঞান একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা কিয়াসকে কুরআন সুন্নাহর ওপর অগ্রাধিকার দেন ।
তৃতীয়তঃ তাসাউফ পন্থী অহংকারী কুটিল একধরনের লোক, যাদের ভাবাবেগ কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা তাদের ভাবাবেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন কুরআন সুন্নাহ নয়।
চতুর্থতঃ যালিম, অসাধু অহংকারী রাজনীতিবিদ, আমীর ওমারাহ। শরীয়াত ও রাজনীতি একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা তাদের রাজনৈতিক চিন্তাকে শরীয়াতের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে বরং শরীয়াতকে উপেক্ষা করে। এই চার ধরনের চিন্তার অধিকারীরা হলো অহংকারী । আর এথেকে মুক্ত থাকাই হলো দ্বীনের প্রতি বিনয়ের আসল পরিচয় ।
তাঁর আরেকটি মূলনীতি হলো, দ্বীনের কোন দলিল প্রমাণের ওপর তিনি ত্রুটি আরোপ করতেন না । অর্থাৎ, তিনি এটা মনে করতেন না যে, এই দলীলের নির্দেশিকা ভুল, অপূর্ণাঙ্গ বা অসংগতিপূর্ণ বরং এধরনের কোন পরিস্থিতির সন্মুখীন হলে তিনি তাঁর নিজের মধ্যে বুঝের কমতি আছে বলে মনে করতেন । যেমন প্রখ্যাত কবি মুতানাবিব বলেছেন, ।
وكم من عائب قولا صحيحا و آفته من الفهم السقيم
কতক (জ্ঞানপাপি) আছে যারা সঠিক কথাটিকেই ত্রুটিপূর্ণ মনে করে । অথচ তার অসুস্থ বুদ্ধি-ই হচ্ছে সমস্যার আসল কারণ।
দুই : কুরআন সুন্নাহর পর সাহাবী (রা) দের কথাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন ।
তিন : কোন মাসয়ালা সম্পর্কে আদ্যপান্ত সব কিছু না জেনে হুট করে তিনি কোন কথা বলতেন না , বরং সব মতামতকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে তারপর নিজের মত ব্যক্ত করতেন।
চার : মতামতদানে , বা কোন মাসয়ালাকে প্রাধান্যদানে তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তার অধিকারী । অর্থাৎ, তিনি হাম্বালী মাযহাবের অনুসারী হলেও মাযহাবের অন্ধ অনুসরণের সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে স্বাধীন চিন্তায় মতামত ব্যক্ত করতেন।
পাঁচ: তিনি আধুনিক গবেষকদের মত তথ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন । উদাহরণ হিসাবে তাঁর ‘যাদুল মায়াদ ফী হাদ্ইয়ে খাইরিল ইবাদ’ গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । তিনি এই বইটি লিখতে গিয়ে তথ্যসূত্র হিসাবে প্রায় ১৮০ টি বইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন ।
ছয় : রচনা ও বর্ণনাশৈলীর দিক থেকে তিনি ছিলেন অসাধারণ। এদিক থেকে তিনি ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) কে ও হার মানিয়েছেন বললে অত্যুক্তি হবে না । ভাষা ছিল তাঁর অত্যন্ত সাবলীল। যে কোন বিষয়কে অতি চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করতে তাঁর কোন জুড়ি ছিল না বললেই চলে ।
শিক্ষাদানঃ
ইবনুল কাইয়্যেম শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জনকারী অসংখ্য মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও মুয়াল্লিম। তাঁদের কয়েকজনের নাম তাঁর ছাত্রদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনু রজবের মতে তিনি তাঁর শিক্ষক ইবনু তাইমিয়াহর (রহ) জীবদ্দশায়ই শিক্ষকতা শুরু করেন।
ইবনে কাসীরের মতে তিনি ৭৪৩ হিঃ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দামেশকের আল্মাদ্রাসা আস্-ছাদারিয়াতে (المدرسة الصدرية ) শিক্ষকতা করেছেন । তবে এর অর্থ এই নয় যে, ৭৪৩ হিজরি থেকেই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেছেন। ইবনুল কাইয়্যেমের মত একজন ইমাম তাঁর জীবনের পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার পর শিক্ষকতা শুরু করেছেন এমনটি মনে করার কোন উপায় নেই বরং ঐতিহাসিকগণ আল্মাদ্রাসা আস্-ছাদারিয়াতে শিক্ষকতার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন । ইমাম সাখাভীর মতে তিনি অন্যান্য আরো বহু জায়গায় শিক্ষকতা করেছেন । তবে এসমস্ত স্থান নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি ।
বিশেষ করে তখনকার সময় বিভিন্ন মসজিদে হালকাতুল ইলম, স্টাডি সার্কেল বা পাঠচক্রের ব্যবস্থা ছিল। এ সমস্ত পাঠচক্র ছিল শিক্ষাদানের আসল মাধ্যম। তিনি এসমস্ত ইলমী হালকাতেও পাঠদান করেছেন । মসজিদে আকসাতেও তিনি ইলমী হালকাতেও দারস দিয়েছেন ।
খুতবাহ বা ভাষণ প্রদান
দাওয়াত দানের ক্ষেত্রে খুতবার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে , বিশেষকরে জুমু’য়ার খুতবার গুরুত্ব অপরিসীম । মহাগ্রন্থ আল কুরআনেও এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ }
‘‘হে মুমিনগণ! জুমু’য়ার দিনে যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও ’’ এখানে ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে সালাত এবং খুতবাহ দুটিকেই বুঝানো হয়েছে, অধিকাংশ মুফাসসির এই মতই ব্যক্ত করেছেন ।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম আল্মাদ্রাসা আস্-ছাদারিয়াতে নিয়মিত ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুমধুর । তিনি একজন উঁচু মানের খতীব ছিলেন । ইবনে কাসীরের মতে তিনি ৭৩৬ হিজরিতে কিসান শহরে নাজমুদ্দিন খুলাই খান এর নির্মিত মসজিদে জুমার খুৎবাহ প্রদান করেছেন এবং এই মসজিদের সর্বপ্রথম খতিব তিনিই ছিলেন । উক্ত মসজিদে তাঁর খুতবাহ দেয়ার কথা শুনে বহু লোক একত্রিত হয়েছিল ।
ফাতওয়া প্রদান
তাঁর কর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিনি ফাতওয়া প্রদান করতেন। ইমাম আযযাহবী বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন একজন ইমাম ও একজন মুফতি এবং একজন বহুমুখী জ্ঞান বিশারদ’। ইবনু রজব বলেছেন , ‘তিনি মাযহাবের ওপর পান্ডিত্ব লাভ করেছেন, কোন বিষয়ে আদ্যপান্ত বুঝার পর ফাতওয়া প্রদান করতেন’ । ইবনু তাঘরী বারদী বলেছেন, ‘তিনি শিক্ষকতা ও ফাতওয়া দানে আত্মনিয়োগ করেছেন, যার ফলে অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছে’ । ফাতওয়া দিতে গিয়ে তিনি কারো মুখের দিকে তাকিয়ে বা কাউকে ভয় করে কথা বলতেন না । উপরন্তু তিনি একজন তার্কিকও ছিলেন । সে সময় তর্কশাস্ত্রের জয়জয়কার ছিল। ইসলাম ও সহীহ ইসলামী আকীদার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে যারা অহেতুক তর্ক-বচসায় লিপ্ত হত তিনি তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতেন।
যেমন তিনি নিজেই বলেছেন,
ولقد ناظرت بعض علماء النصارى معظم يوم، فلما تبين له الحق بهت، فقلت له وأنا وهو خاليين : ما يمنعك الآن من اتباع الحق ؟
‘আমি একদিন বেশ কিছুক্ষন একজন খৃস্টান আলিমের সাথে তর্ক-বচসা করেছি। এরই মাধ্যমে তার নিকট যখন সত্য সুস্পষ্ট হল তখন সে হতবুদ্ধি হয়ে গেল । এরপর আমরা দুজন যখন একাকি হলাম আমি তাকে বললাম , এখন তোমাকে ইসলামের অনুসরণ করতে কোন্ জিনিস বাধা দিচ্ছে ?’।
অপসংস্কৃতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইবনুল কাইয়্যেমের ভূমিকা ছিল ইসপাত কঠিন । সম্মানিত পাঠকবৃন্দ মনে হয় তাঁর এমন কোন বই খুঁজে পাবেন না যে বইতে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেননি । যেমন, অমুসলিম ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের চক্রান্ত ও বিরোধিতার জবাবে তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘ হিদায়াতুল হাইয়ারা ফী আর্রাদ্দি আ’লা আল্ইয়াহুদি ওয়া আন্নাসারা’ ( هداية الحيارى في الرد على اليهود و النصارى ) গ্রন্থটি লিখেছেন। মুসলিমদের মধ্যে ভ্রান্ত আকীদাহ বিশ্বাসিদের বিরুদ্ধে তো তিনি গোটা জীবনই সংগ্রাম করেছেন। এছাড়া আহলুস সুন্নাহ ওয়া আল্জামায়া’র অনুসারিদের মধ্যে যারা এক দিকে ইসলামী বিধানের কথা বলত অন্য দিকে হিকমত আর কৌশলের নামে কুকর্ম করার সুযোগ সন্ধানি ছিল তাদের বিরুদ্ধেও ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) কলমের মাধ্যমে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন । এখানে বলে রাখা দরকার যে, সব কৌশল হারাম নয়, কিছু কিছু কৌশল ও উপায় অবলম্বন সাওয়াবের কাজও বটে, তবে কৌশল ও উপায় অবলম্বনের নামে হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করা, ইসলামের নামে ইসলামী বিধানের পরিপন্থী কাজ করা, ( مَقَاصِدُ الشَرِيْعَة ) বা শরীয়াতের উদ্দেশ্যের দোহাই দিয়ে কুরআন সুন্নাহ বিরোধি কাজকে প্রশ্রয় দেয়া , উদারতার নামে অনৈসলামিক কাজকে বৈধতা প্রধান করা সম্পূর্ণ হারাম ও অনৈতিক। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে তাঁর উম্মাতকে হুশিয়ার করেছেন। তিনি বলেন, "لا ترتكبوا ما ارتكبت اليهود ، فتستحلوا محارم الله بأدنى الحيل "
‘‘ইয়াহুদীরা যে সমস্ত দুস্কর্ম করেছে তোমরা সে সমস্ত দুস্কর্ম করো না , এর ফলে তোমরা একটুখানি কৌশলের নামে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’’
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কিছু উদাহরণও দিয়েছেন। যেমন যাকাত আদায় না করার কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেছেন, { لَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْن مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ }
যাকাত সংক্রান্ত বিষয়ে ‘‘ভিন্ন ভিন্ন বস্ত্তকে যেন একত্রিত করা না হয় এবং সম্মিলিত বস্ত্তকে বিচ্ছিন্ন করা না হয়’’।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনুল কাইয়্যেম ( রহ ) বলেন,
وَهَذَا نَصٌّ فِي تَحْرِيمِ الْحِيلَةِ الْمُفْضِيَةِ إلَى إسْقَاطِ الزَّكَاةِ أَوْ تَنْقِيصِهَا بِسَبَبِ الْجَمْعِ وَالتَّفْرِيقِ , فَإِذَا بَاعَ بَعْضَ النِّصَابِ قَبْلَ تَمَامِ الْحَوْلِ تَحَيُّلًا عَلَى إسْقَاطِ الزَّكَاةِ فَقَدْ فَرَّقَ بَيْنَ الْمُجْتَمِعِ , فَلَا تَسْقُطُ الزَّكَاةُ عَنْهُ بِالْفِرَارِ مِنْهَا
‘এ ভাষ্য প্রমাণ করে যে, যাকাত একেবারেই না দেয়ার জন্য বা কম দেয়ার জন্য (সম্পদ ) একত্র করা বা বিচ্ছিন্ন করার কৌশল অবলম্বন হারাম। অতএব, যাকাত আদায় না করার কৌশল হিসাবে যদি কেউ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই নিসাবের কিছু অংশ বিক্রি করে ফেলে বা একত্রিত সম্পদকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, এতে করে যাকাত আদায় করা থেকে পালাবার চেষ্টা করলেও তার ওপর যাকাত আদায় করা বাতিল হবে না।’
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর কালে কৌশলের নামে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সাথে মানুষ জড়িয়ে পড়ে। এই মহামারী থেকে সমাজকে বাঁচাবার জন্য তিনি কলম যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করেন।(ةحريم الحيلة) কৌশল অবলম্বন করা হারাম এই শিরোনামে তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘ই’লামুল মুয়াক্কেইন আন রাবিবল আ’লামীন’
"إعلام الموقعين عن رب العالمين " বইতে প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার মত দীর্ঘ একটি অধ্যায় সংযোজন করেছেন । যেমন, বায়েন তালাক বা তিন তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে পুনরায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য নামকা ওয়াস্তে বিবাহের কথা বলে তাকে কোন পুরুষের নিকট সোপর্দ করা এবং তার সাথে এ মর্মে চুক্তি করা যে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সে ঐ মহিলাকে তালাক দিয়ে দেবে এরপর যথারীতি সে পূর্বের স্বামীর নিকট ফিরে যাবে । যারা এ ধরনের কাজ করে তাদের উপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লা’নত করেছেন । তিনি বলেছেন,
" ألا أخبركم بالتيس المستعار ؟ قالوا : بلى يا رسول الله . قال : هو المحلل و لعن الله الـمُحَلِّلَ و الـمُحَلَّلَ له "
‘‘আমি কি তোমাদেরকে ভাড়াটে পাঁঠার সংবাদ দেবো না ? তাঁরা ( সাহাবীগণ ) বললেন, কেন নয় , বলুন হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, সে হলো যে হালাল করে । আল্লাহর অভিশাপ যে হালাল করে তার ওপর এবং যার জন্য হালাল করা হয় তার ওপর’’ ।
কৌশলের নামে এধরনের কাজের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইবনুল কাইয়্যেম । তিনি এর একটা চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন,
مكيدة التحليل الذي لعن رسول الله ( صلى الله عليه و سلم ) فاعله وشبهه بالتيس المستعار وعظم بسببه العار والشنار وعير المسلمين به الكفار وحصل بسببه من الفساد ما لا يحصيه إلا رب العباد ... فلو شاهدت الحرائر المصونات على حوانيت المحللين متبذلات تنظر المرأة إلى التيس نظر الشاة إلى شفرة الجازر ... إذا تشارطا على ما يجلب اللعنة والمقت نهضا ..حتى إذا خلا بها وأرخى الحجاب والـمُطَلِّقُ والولي واقفان على الباب، دنا ليطهرها بمائة النجس الحرام ويطيبها بلعنة الله ورسوله ( عليه الصلاة و السلام ) حتى إذا قضيا عرس التحليل ولم يحصل بينهما المودة والرحمة التي ذكرها الله تعالى في التنزيل فإنها لا تحصل باللعن الصريح ولا يوجبها إلا النكاح الجائز الصحيح
(তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে ) ‘হালাল করার প্রতারণার জন্য এর কর্তার ওপর রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) অভিশাপ করেছেন এবং ভাড়াটে পাঁঠার সাথে তাকে তুলনা করেছেন । এ কারণে (সমাজে ) লজ্জা ও অপমান প্রকট আকার ধারণ করেছে । কাফির লোকেরা পর্যন্ত এজন্য মুসলিমদেরকে লজ্জা দিচ্ছে । এর ফলে সমাজে এমন বিপর্যয় শুরু হয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গুণে শেষ করতে পারবে না । আপনি লক্ষ্য করবেন, সতী-সাধ্বী নারীদেরকে (প্রতারক ) হালালকারীদের আখড়াতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় । একজন মহিলা (পুরুষ নামক ) পাঁঠাটির দিকে এমন ভাবে তাকায় যেমন একটি বকরি কসাইয়ের ছুরির দিকে তাকায় . .পরে দু’জনেই যখন আল্লাহর লা’নত ও ক্রোধের কাজ শুরু করে এরপর উঠে দাঁড়ায় . . . এবং পৃথক হওয়ার পর পর্দা সরিয়ে নেয়া হয়, এমতাবস্থায় যে তালাক দিয়েছে সে এবং (মেয়ের ) অভিভাবক দুজনেই দরজায় অপেক্ষা করে । শত হারাম ও অপবিত্রতা দিয়ে তাকে পবিত্র করার জন্য এবং আল্লাহ ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লা’নত দিয়ে তাকে সুন্দর করার জন্য । এরই মাধ্যমে তারা তাকে (মহিলাকে পূর্বের স্বামীর জন্য) হালাল করার অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে; কিন্তু এর ফলে দুজনের মধ্যে যে ভালোবাসা ও প্রেম প্রীতি সৃষ্টি হওয়ার কথা তা গড়ে উঠে না। কারণ হলো তারা অভিশপ্ত। এ ভালোবাসা অর্জিত হতে পারে শুধু সহীহ পদ্ধতিতে বিবাহের সম্পন্ন হলে’। অনুরূপ তিনি ব্যবসার নামে সূদ খাওয়ার প্রবণতাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। এবং (مقاصد الشريعة ) বা শরীয়াতের উদ্দেশ্যের দোহাই দিয়ে যারা কুরআন সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করে হারাম কে হালাল করার চেষ্টা করে তাদের সম্পর্কে বলেন, ‘তারা (কুরআন সুন্নাহর) কোন শব্দ (বা ভাষ্য) যে অর্থ বহন করে না সেটাই ঐ শব্দের অর্থ বলে চালিয়ে দেয়। যেমন আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} و قال تعالى {إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةَ تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ}
‘‘ হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না ; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাজি হয়ে ব্যবসা করা বৈধ’’ (অপর আয়াতে বলা হয়েছে ) ‘‘ কিন্তু তোমরা পরস্পর যে ব্যবসার আদান প্রদান কর ’’ উল্লেখিত আয়াত দুটিকে বাহানা করে তারা কৌশল হিসাবে ই’নার মত সূদি ব্যবসাকে হালাল ব্যবসা বলে চালিয়ে দিচ্ছে । আল্লাহর শপথ ! বলুন দেখি, যা সুস্পষ্ট সূদ, তা একজন সূদি কারবারীর জন্য ব্যবসা হয়ে গেল !। এটা কোন ধরনের ব্যবসা ?
কুরআন সুন্নাহর বর্ণনার ওপর বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের জবাবে ইবনুল কাইয়্যেম এর ভূমিকা ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) যুগ শ্রেষ্ঠ সংস্কারকদের অন্যতম। তাঁর কালে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ছিল মুসলিমদের আক্বীদাহ বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ। এ সমস্ত বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় হলো, কুরআন হাদীসে বর্ণিত ভাষ্য যদি বিবেকের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন এক্ষেত্রে মু’তাজিলাহ সম্প্রদায় আকল্ বা বিবেক বুদ্ধিকে কুরআন সুন্নাহর ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আশায়ে’রা, মাতুরিদিয়াহ ও জাহমিয়া সমপ্রদায়ও প্রায় একই মত পোষণ করে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে এ সমস্ত ভ্রান্ত মতবাদের অসারতা প্রমাণে সার্থক ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে এ বিষয়ের ওপর তিনি ‘ আস্ সাওয়াইক্ আল্ মুরসালাহ’ (الصواعق المرسلة ) নামক তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন,
"إذا تعارض العقل والنقل وجب تقديم النقل ؛ لأن الجمع بين المدلولين جمع بين النقيضين وإبطالهما معا إبطال للنقيضين وتقديم العقل ممتنع ؛ لأن العقل قد دل على صحة السمع و وجوب قبول ما أخبر به الرسول . فلو أبطلنا النقل لكنا قد أبطلنا دلالة العقل وإذا بطلت دلالته لم يصلح أن يكون معارضا للنقل لأن ما ليس بدليل لا يصلح لمعارضة الدليل فكان تقديم العقل موجبا لعدم تقديمه ".
‘যখন (কুরআন সুন্নাহর) বর্ণনা ও বিবেক একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন (কুরআন সুন্নাহর) বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেয়া ওয়াজিব। কেননা, তখন দুটি প্রমাণকে একত্র করার অর্থ হবে বিপরীতধর্মী দুটি জিনিসকে একত্র করা। আবার দুটি অর্থকে একত্রে নাকচ করে দেয়ার অর্থ হবে বিপরীতধর্মী দুটি জিনিসকেই একত্রে নাকচ করে দেয়া। তাই বিবেক কে (কুরআন সুন্নাহর) বর্ণনার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া অসম্ভব (রসঢ়ড়ংংরনষব)। কেননা, কোন কিছু শোনার সত্যতা আকল বা বিবেকই প্রমাণ করে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) যে সমস্ত সংবাদ দিয়েছেন তা গ্রহণ করার অপরিহার্যতা বিবেকই প্রমাণ করে। অতএব আমরা যদি (কুরআন সুন্নাহর) বর্ণনাকে নাকচ করে দেই, তা হলে এর অর্থ দাঁড়াবে আমরা বিবেকের পথনির্দেশকেই নাকচ করে দিলাম। আর যখন বিবেকের পথনির্দেশ নাকচ হয়ে যাবে তখন সেটাকে (কুরআন সুন্নার) বর্ণনার বিপরীতে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। কেননা যেটা দলীল বা প্রমাণ-ই নয় সেটা দলীল প্রমাণের বিপরিতে বিবেচ্য নয়। বরং বিবেককে অগ্রাধিকার দেয়ার অপরিহার্য দাবী হলো বিবেককে অগ্রাধিকার না দেয়া।
আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়া’তের আলিমদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতপার্থক্য।
ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন এমটি মনে করা ঠিক হবে না, কোন ইজতেহাদী বিষয়ে তাঁরও ভুূল হতে পারে এটাই স্বাভাবিক। এধরণের দুএকটি বিষয়ে আমাদের সম্মানিত উলামায়ে কিরাম মতপার্থক্য করেছেন। যেমন তাঁর দৃষ্টিতে পাপি মুমিনদের আবাসস্থল জাহান্নাম একদিন নিশ্বেঃষ হয়ে যাবে।
তিনি মনে করেন যে, আখিরাতের আবাসস্থল তিন ধরনের হবেঃ
একঃ কাফিরদের স্থায়ী আবাসস্থল জাহান্নাম ।
দুইঃ পুণ্যবান মুমিনদের স্থায়ী আবাসস্থল জান্নাত। এই দুই আবাসস্থল চিরস্থায়ী। কখনো এ’ দুটো শেষ হয়ে যাবে না ।
তিনঃ পাপি মুমিনদের আবাসস্থল জাহান্নাম এটি অস্থায়ী। সকল পাপি মুমিন শাস্তি ভোগ করার পর তাদের এ’ আবাসস্থল ( জাহান্নাম) এক সময় শেষ হয়ে যাবে ।
আবার তাঁর কোন কোন লেখা থেকে এমনটিও বুঝা যায় যে, তিনি জাহান্নামকে চিরস্থায়ী মনে করেন না। যেমন তিনি বলেন,
أن النار قد أخبر سبحانه و تعالى في ثلاث آيات عنها بما يدل على عدم أبديتها .. فإنه قال في أهل النار : ( إن ربك فعال لما يريد ) فعلمنا أن الله سبحانه و تعالى يريد أن يفعل فعلا لم يخبرنا به . و قال في أهل الجنة : ( عطاء غير مجذوذ ) فعلمنا أن هذا العطاء و النعيم غير مقطوع عنهم أبدا فالعذاب موقت معلق و النعيم ليس بموقت و لا معلق ...
‘আল্লাহ তায়ালা তিনটি আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে যে সংবাদ দিয়েছেন তা থেকে বুঝা যায় যে, জাহান্নাম চিরস্থায়ী নয়; কেননা তিনি ( আল্লাহ ) জাহান্নামীদের সম্পর্কে যা বলেছেন তার অর্থ হলো, ‘‘আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন’’। এ থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, আল্লাহ তা’য়ালা এমন একটি কাজ করতে চাচ্ছেন যার সংবাদ তিনি আমাদেরকে দেননি। অপরদিকে জান্নাতীদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ( عطاء غير مجذوذ ) ‘‘এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবার নয়’’ এ থেকে আমরা জানলাম যে, জান্নাতিদের ওপর এ’দান ও অনুগ্রহ কখনো শেষ হবে না। অতএব শাস্তি হলো ক্ষণস্থায়ী ও ঝুলন্ত আর নিয়ামতসমূহ ক্ষণস্থায়ীও নয় এবং ঝুলন্তও নয়’ ।
তাঁর এই যুক্তির জবাবে আল মানার ম্যাগাজিনের মাধ্যমে জনাব আবদুজজাহের মুহাম্মাদ এর কড়া প্রতিবাদ করেছেন । তিনি বলেন,
كاد يشبهها علينا ابن القيم - رحمه الله - بقوله : ( ولم نعلم ما يريده بهم ) أي الذين شقوا . قال : وأما الذين سُعدوا فقال فيهم : ] عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ [ فبالله ألا فتأملوا أيها المنصفون ، فوالله لقد أخطأ ابن القيم إن كان يعتقد أن قوله تعالى : ] إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ [ فيها إلماع أو إشارة إلى فناء النار ، ومن يفهم هذا الفهم أو يجوِّزه بعد أن سمع ما أوردناه وما سنورده ؟ ‍‍! قال تعالى : ] إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ [ ماذا يقول الفنائيون في هذه الآية أيضًا ؟ أيقولون : لا ندري ماذا يريد الله بأهل الجنة ، كما قالوا في آية هود ؟ وإلا فما الفرق بين الخبرين ؟ .
‘যারা দুর্ভাগা (জাহান্নামি) তাদের বিষয়ে ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) বলেছেন, ‘আমরা জানি না (আল্লাহ) তাদের বিষয়ে কী করবেন’ এ’কথাটি বলে তিনি আমাদেরকে জাহান্নামের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্তে ফেলে দিয়েছেন। আর যারা সৌভাগ্যবান (জান্নাতি) তাদের বিষয়ে বলেছেন, { عَطَاء غَيْرَ مَجْذُوذٍ } ‘‘এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবার নয়’’। আল্লাহর শপথ, হে ন্যায়নিষ্ঠ চিন্তাশীলগণ আপনারা কি সতর্কতার সাথে বিষয়টি চিন্তা করে দেখবেন না ? আল্লাহর এই বাণী { إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ } সম্পর্কে যদি তিনি এ আকীদাহ পোষণ করেন যে, এর মধ্যে ইশারা ইঙ্গিত রয়েছে যে, জাহান্নাম একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে, তা হলে আল্লাহর শপথ, ইবনুল কাইয়্যেম ভুলের মধ্যে রয়েছেন। আমরা যে সমস্ত দলিল প্রমাণ এর পূর্বে পেশ করেছি এবং অচিরেই যা পেশ করবো এর পরেও এমন কে আছেন যিনি বিষয়টিকে এভাবেই বুঝবেন এবং এই মতকে জায়েয মনে করবেন? দেখুন আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন,
] إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ [
‘‘যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করে আল্লাহ তদেরকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার নিচে দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয় । আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন’’ ।
যারা মনে করেন যে, জাহান্নাম লয় হয়ে যাবে তারা এই আয়াতের কী উত্তর দেবেন ? তারা কি বলবেন যে, আমরা জানিনা। এরপর আল্লাহ জান্নাতিদের বিষয়ে যা ইচ্ছা তাই করবেন ! ? যেমনটি তারা জাহান্নামিদের বিষয়ে বলেছেন । নইলে ( জান্নাতি ও জাহান্নামিদের বিষয়ে বর্ণিত ) দুটি সংবাদের মধ্যে কী পার্থক্য আছে ?
উপসংহার :
ইবনুল কাইয়্যেম শুধু একজন প্রথিতযশা আলিমে দ্বীন বা বিখ্যাত লেখক ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মার একজন মুক্তির দিশারি। তিনি একজন ব্যক্তিই ছিলেন না বরং তিনি একাই ছিলেন একটি জাতি। গোটা জীবন সংগ্রাম করেছেন, শিরক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে। তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী হলেও কুরআন সুন্নাহ ও সাহাবীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন তাঁর অনুসৃত মাযহাবের ওপর। ইসলামী আক্বীদার সঠিক দিশাই দিয়েছেন তিনি মুসলিম উম্মাহকে। আল্লাহর নিকট থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উত্তম পয়গাম রয়েছে তাঁর লেখনির মধ্যে। তিনি বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর লিখিত প্রতিটি বই হিদায়াতের এক একটি মশাল এবং মুক্তির মাইল ফলক হিসাবে ধরা যায়। সবগুলো বই না হলেও অন্তত বিশেষ বিশেষ কিছু বই বাংলা ভাষায় অনুদিত হলে পাঠক সঠিক পথের সন্ধান লাভ করতে পারবেন বলে আশারাখি । পরিশেষে আল্লাহ তাঁর সমস্ত চেষ্টা প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। ( আমীন )

 

 

ফুটনোটঃ

. কাইয়্যেম শব্দের অর্থ তত্বাবধায়ক, রক্ষনাবেক্ষনকারী। ফলেএই নামের অর্থ হবে, আল- জাওযিয়াহ মাদ্রাসার তত্বাবধায়কের পুত্র। ভুলবশতঃ অনেকেই তাঁকে ইবনু আল্কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ বলে থাকেন । এ সম্পর্কে জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্ সাইয়েদ বলেন,
ما يسمع على ألسنة البعض من قولهم: (ابن القَيِّم الجوزية) بالجمع بين (أل) و الإضافة، ومعلوم أنهما لا يجتمعان في التعريف. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৬৭ , ইমাদাতুল বাহ্সিল ইলমী , আল জামিয়া’হ আল ইসলামিয়াহ বিল্ মাদীনাহ আল মুনাওয়ারাহ ।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ, পৃষ্ঠা ৩৭ -৩৯ , রিয়াদ দারুল আসিমাহ এবং ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৬৭ , প্রাগুক্ত ।
. হাদীসটি হলো, لن يشبع المؤمن من خير يسمعه حتى يكون منتهاه الجنة । দেখুন , আলজামেয়’ আসসহীহ সুনানুত্ তিরমিযি , ইমাম তিরমিযি, খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ৫০, দারু এহইয়া আত্ তুরাসুল আলআরাবী, বৈরুত ।
. দেখুন , মিফতাহু দারিস সায়া’দাহ খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৭৪ , দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ , বৈরুত ।
. যেমন , এ সম্প্রদায়ের ইবনুত্ ত্বাইয়েব আল বাকিললানী মনে করেন যে, নবী রাসূলগণ ইচ্ছাকৃত কবীরাহ ও সগীরাহ পাপ করেছেন । দেখুন, আলফাসলু ফী আল্-মিলালি ওয়া আল আহওয়াই ওয়ান নিহাল , আলী বিন আহমাদ আযযাহেরী খন্ড ৪ পৃষ্ঠা ২ মাকবাবাতুল খানজী , আল ক্বাহিরাহ ।
. দেখুন, আননূনিয়্যাহ বি শারহে ইবনে ঈসা , ইবনুল কাইয়্যেম , খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮১ । দামেশক আল্মাকতাবুল ইসলামী । ও ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, পৃষ্ঠা ১৩১ । প্রাগুক্ত
. দেখুন , মাশাহীরু আয়’লামুল মুসলিমীন , আলী বিন নায়েফ আশ্- শাহুদ, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৪৯ , আল্ হাইয়াহ আল ইলমিয়াহ আল খাইরিয়াহ ।
. দেখুন, আল্ ফুরুসীয়াহ , ইবনুল কাইয়্যেম পৃষ্ঠা ১২৯ , দারুল আন্দালুস, সাউদী আরব । ১৪১৪ হি:
. দেখুন , ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৮৯ - ১০৫ প্রাগুক্ত
. দেখুন, হাদিউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ , ইবনু কাইয়্যেম আল্জাওযিয়্যাহ , পৃষ্ঠা ৫৪ । দারু ইবনে কাসীর, বৈরুত ইমাম আবু হানিফা ( রা ) যে এই মত পোষন করতেন এবং ইবনুল কাইয়্যেম যে এই মতের প্রবক্তা ছিলেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন , রাফউল আসতার লি ইবতালি আদিল্লাতিল ক্বায়িলীনা বি ফানায়িন্ -নার, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল্ আমীর আস্সানায়ানী, পৃষ্ঠা ৪২, বৈরুত আল মাকতাবুল ইসলামী ।
. দেখুন, সালাতুল মুয়'মেনীন, ড. সায়ীদ বিন আলী ওয়াহাফ আল্ কাহত্বানী , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২১৯ -২২০ মুয়াস্সাসাতুল জারিসী রিয়াদ
. দেখুন, হাসিয়াতু ইবনিল কাইয়্যেম আ’লা সুনানি আবি দাউদ , ইবনুল কাইয়্যেম, খন্ড ৬ পৃষ্ঠা ৩৬২ , দারুল কুতুবিল ইলমীয়াহ বৈরুত ।
. দেখুন ইয়’লামুল মুয়াক্কেয়ীন আর রাবিবল আ’লামীন , ইবনুল কাইয়্যেম, খন্ড ২ প্রষ্ঠা ২০৯ মাকতাবতুল কুল্লিয়াতুল আযহারীয়াহ মিশর ।
. সুরা নিসা, আয়াত ৬৫।
. দেখুন , আল্আয়াতুল বাইয়্যেনাত , আল্আলূসী, পৃষ্ঠা ৭৩ বৈরুত আল মাকতাবুল ইসলামী এবং সিফাতু সালাতিন্ নাবী, আল্লামা নাসের উদ্দিন আল্ আলবানী , পৃষ্ঠা ৪৬ , রিয়াদ মাকতাবাতুল মাযারিফ ।
. দেখুন, আত্তাকরীব লি ফিক্হে ইবনি কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ, বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ , পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫ মাতাবি’য় দারুল হিলাল আর্রিয়াদ ।
. দেখুন , যাইলু ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৪৪৮
. দেখুন , আলমানার মাসিক পত্রিকা , ভলিউম ১২ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৪১ মহররম ১৩২৭ , ফেব্রুয়ারী ১৯০৯ ।
. দেখুন, ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিস শায়ত্বান , ইবনুল কাইয়্যেম, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৭ ,বৈরুত দারুল মা’য়রিফাহ
. তিনি সাউদী আরবের অধিবাসি , একজন প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন ও সুলেখক ।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, বাকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়ে , পৃষ্ঠা ৫৭ প্রাগুক্ত
. দেখুন, ইয়লামুল মুয়াকক্কেয়ীন, ইবনুল কাইয়্যেম , খন্ড ২ , পৃষ্ঠা ৫ বৈরুত দারুল জীল,
. তাঁর নাম ও মৃত্যু সন নিয়ে মতপার্থক্য আছে কেউ বলেছেন, তিনি কামাল উদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস্সীরাজী । দেখুন,আত্তাক্রীব লি ফিকহ্ ইবনু কাইয়্যেম আল্জাওযিয়্যাহ , , বাকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়িদ, পৃষ্ঠা ১৪৫ রিয়াদ , মাতাবে’য় দারুল হিলাল
. ইনি ইবনু তাইমিয়াহ (রহ) এর ভাই ।
. দেখুন, যাইলু ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ, ইবনু রজব, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৪৪৮, মাতবায়াতুস সুন্নাহ আল্ মুহাম্মাদিয়াহ, ।
. বাকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়িদ বলেছেন, অনুসন্ধানের পরও এই তিন জনের মৃত্যুর সন তারিখ জানা সম্ভব হয়নি ।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, পৃষ্ঠা ১৬১ - ১৭৬ প্রাগুক্ত
. দেখুন, আদ্ দুরারুল কা’মিনাহ, ইবনে হাজার, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৩৭৩, ত্বাবয়াতুল মাদানী মিশর
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু পৃষ্ঠা ১৭৯ - ১৮৩ প্রগুক্ত
. দেখুন, দৈনিক সংগ্রাম , বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০০৯ , পৃষ্ঠা ৯ কলাম ৮ ।
. দেখুন, শাযারাতুয্ যাহাব ফী আখবারে মান যাহাব , আবদুল হাই বিন আহমাদ আল্ আকরী , খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ২৭০ বৈরুত , দারুল কুতুব আল ইলমীয়াহ ।
. তিনি সাইফুদ্দিন কেতয্ বিন আবদুল্লাহ আল মুয়িয্ , মৃত্যু ৬৫৮ হিঃ ।,দেখুন, আল বিদাইয়াহ ওয়ান নিহায়াহ , ইবনে কাসীর খন্ড ১৩ পৃষ্ঠা ২৩১ - ২৩৫ । প্রাগুক্ত
. তিনি খলীল বিন ক্বালাউন , আল্ মালিকুল আশরাফ বিন আল্ মালিক আল্মানসূর ৬৮৯ হিঃ তে সিংহাসনে আরোহন করেন এবং ৬৯৩ হিঃ সনে তিনি মৃত্যু বরণ করেন । দেখুন আল বিদাইয়াহ ওয়ান নিহায়াহ , ইবনে কাসীর খন্ড ১৭ পৃষ্ঠা ৬৬৭ । প্রাগুক্ত
. দেখুন ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২১২
. দেখুন, মাদারিজুস সালেকীন বাইনা মানাযিলি ইয়’াকা না’য়বুদু ওয়া ইয়া’কা নাসতায়ীন, ইবনুল কাইয়্যেম, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৭১। বৈরুত দারুল কিতাবুল আরাবী । প্রকাশকাল ১৩৯৩ হিঃ ,
. দেখুন, আল বিদাইয়াহ ওয়া আন্ নিহাইয়াহ , ইবনে কাসীর , খন্ড ১৩ পৃষ্ঠা ১৫৯ দারুল কুতুব আল ই্লমীয়াহ , বৈরুত প্রথম সংস্করণ ১৪০৫ ।
. দেখুন. ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৪৩- ৫৭ প্রাগুক্ত।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৫৭ - ৬৬ । প্রাগুক্ত
প্রাগুক্ত, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ২৫০
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, পৃষ্ঠা ৭১-৭২ প্রাগুক্ত ।
. দেখুন, আত্তাকরীব লি ফিক্হে ইবনি কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ, বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ , পৃষ্ঠা ৫১ - ৫২। রিয়াদ মাতাবি’য় দারুল হিলাল ।
. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৭০ - ২৫১
. দেখুন মাদারিজুস সালেকীন, ইবনুল কাইয়্যেম খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ৪৫০ - ৪৭৬ , বৈরুত , দারুল কিতাবুল আরাবী ।
. দেখুন , আততাফসীরুল কাইয়্যেম লি ইবনিল কাইয়্যেম , মুহাম্মাদ ওয়াইস আন্নাদাভী , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১
. দেখুন , আত্ তাফসীর ওয়াল মুফাসি্সরুন , ড. মুহাম্মাদ হুসাইন আয্ যাহাবী, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৩৮৭ দারুল কুতুব আল্ হাদীসাহ ,
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আলজাওযিয়াহ হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু, পৃষ্ঠা ২৭০ প্রাগুক্ত
. প্রাগুক্ত ২৮৮ পৃষ্ঠা ।
. দেখুন , দীওয়ান শারহুল মুতানাবিব, আল্ মুতানাবিব খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৩৬১ ।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , জামাল বিন মুহাম্মাদ আস্সাইয়েদ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৬৭ প্রাগুক্ত
. দেখুন, যাইলু ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ, ইবনু রজব , খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৪৪৯ মাত্বায়’তুস সুন্নাহ আল্ মুহাম্মাদিয়াহ ।
. দেখুন , আলবিদাইয়াহ ওয়ান নিহায়াহ , খন্ড ১৪ , পৃষ্ঠা ১৭৫ প্রাগুক্ত
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৮৩ প্রাগুক্ত ।
. দেখুন, মাশাহীরু আয়’লামুল মুসলেমীন, সম্পাদনায় : আলী বিন নায়েফ আশ্-শাহুদ ,খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৪৯
. সূরাতুল জুমু’য়াহ, আয়াত ৯
. উদাহরণ হিসাবে দেখুন, আলবাহরুল মাদীদ ,আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস্সাজেলী, খন্ড ৮ পৃষ্ঠা ৬৩ , বৈরুত দারুল কুতুব আল্ইলমিয়াহ ।
. দেখুন, আল বিদাইয়াহ ওয়ান নিহাইয়াহ , খন্ড ১৪ পৃষ্ঠা ১৮৩ প্রাগুক্ত ।
. দেখুন, ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ ওয়া জুহুদুহু ফী খিদমাতিস্ সুন্নাহ খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৮৭ প্রাগুক্ত ।
. প্রাগুক্ত খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৮৯
. দেখুন, হিদায়াতুল হাইয়ারা ফী আজওয়েবাতিল ইয়াহুদে ওয়ান নাসারা , ইবনুল কাইয়্যেম খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১১৯ , আল জামিয়াতুল ইসলামীয়াহ বিল মাদীনাতিল মুনাওয়ারাহ।
. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও হাদীসটির সূত্র কোন হাদীস গ্রন্থে থেকে উদঘাটন করা যায়নি , তবে অসংখ্য ফিকাহ শাস্ত্রবিদ ও মুফাস্সেরীনে কেরাম আবুহুরায়রাহ ( রাঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । উদাহরণ হিসাবে দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ১৩৭ , দারুল ফিকর বৈরুত , ১৪১৪ হিঃ, মাজমুয়ু’ল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমীয়াহ খন্ড ২০ পৃষ্ঠা ৩৪৮ , দারুল ওয়াফা তৃতীয় সংস্করণ ১৪২৬ হিঃ
. দেখুন, আল্ মুসতাদরাক আলা আস্সহীহাইন , আল হাকেম আন্ নাইসাবুরী , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৫৪৮ , দারুল কিতাব আল্ ইলমীয়াহ বৈরুত ১৪১১ হিঃ
. দেখুন, ইয়’লামুল মুয়াক্কেইন আন রাবিবল আয়’লামীন, তৃতীয় খন্ড পৃষ্ঠা ২০৩ প্রাগুক্ত ।
. দেখুন , ইবনু কাইয়্যেম আল্ জাওযিয়াহ হায়াতুহু , আ’সারুহু মাওয়ারিদুহু , পৃষ্ঠা ১২৬ প্রাগুক্ত ।
. দেখুন, আলমুয়’জামুল কাবীর , আত্ ত্বাবারানী , খন্ড ১৭ পৃষ্ঠা ২৯৯ , মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম আল-মূসিল ।
. তা হলো আল্লাহ এই বাণী ,
{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ }الروم ২১
. দেখুন , ইগাসাতুল লাহফান , ইবনুল কাইয়্যেম, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৬৮ , দারুল মায়ারিফ বৈরুত , ১৩৯৫ হিঃ
. সূরাতুন নিসা , আয়াত ২৯
. সূরাতুল বাক্বারাহ , আয়াত ২৮২
. عِيْنَة (ই’নাহ ) এক ধরনের সূদি ব্যবসার নাম , এই ব্যবসার প্রক্রি্য়া সম্পর্কে ইমাম আবদুর রাউফ আল্ মানাভী বলেন,
أن يبيع سلعة بثمن لأجل ثم يشتريها منه بأقل منه অর্থাৎ, কোন দ্রব্যসামগ্রি পরবর্তী সময়ে (মূল্য পরিশোধের শর্তে ) অধিক দামে বিক্রি করে এরপর সাথে সাথে ক্রেতার নিকট থেকে কম দামে কিনে নেয়া । দেখুন, আত্ তাইসীর বি শারহি আল্ জামেয় আস্সাগীর, আল্ মানাভী খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৬৭ , মাকতাবাতুল ইমাম আশ্ শাফেয়ী , রিয়াদ ।
. দেখুন ইয়’লামুল মুয়াকক্বেয়ীন আন রাবিবল আয়’লামীন, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৬১ , প্রাগুক্ত ।
. আমাদের সমাজেও বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও বিভিন্ন সমিতি ব্যবসার নামে কৌশলে এই সূদি কারবারটি করে যাচ্ছে দেদারছে । যেমন, তারা কাউকে বাকিতে পণ্য কিনে দেয়ার নামে নগদ টাকা প্রদান করছে, আবার পরবর্তিতে শর্তানুযায়ী বর্ধিত হারে নগদ টাকাই নিচ্ছে , মাঝখানে দ্রব্যসামগ্রির নামটি কৌশল হিসাবে গ্রহণ করে সূদি কারবারকে ইসলামের রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেয়া হচ্ছে । তবে যদি কোন প্রতিষ্ঠান সত্যিকারার্থেই গ্রাহককে পণ্য হস্তান্তর করে এবং পরবর্তিতে বর্তমান ক্রয় মূল্যের চাইতে অধিক মূল্য গ্রহণ করে তবে তা সূদের আওতায় পড়বে না ।
. আধুনিক পরিভাষায় এই চিন্তার লোকদেরকে ‘আক্লানিউন’ ও বলা হয়ে থাকে ।
. যেমন, জীবন ও মৃত্যু । এ দুটি বিষয়কে একত্রে গ্রহন করা যেমন অসম্ভব ঠিক বিষয় দুটিকে একত্রে নাকচ করাও অসম্ভব । যেমন , একজন ব্যক্তিকে হয়ত জীবিত বলতে হবে নইলে মৃত বলতে হবে কিন্তু তার ওপর থেকে জীবন ও মৃত্যু দুটোকেই একতে অস্বিকার করা যায় না ।
. দেখুন, আস্ সাওয়াইক আরমুরসালাহ , খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ৮২৭ দারুল আয়’সিমাহ , রিয়াদ ।
. দেখুন , আল ওয়াবিল আস্ছাইয়েব মিনাল কালামিত ত্বাইয়েব , ইবনুল কাইয়্যেম , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৪ । বৈরুত দারুল কিতাবিল আরাবী
. দেখুন, হাদিউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ , ইবনুল কাইয়্যেম , খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৫১ বৈরুত দারুল কুতুব আল ইলমীয়াহ
তাঁর কথার পক্ষের আয়াত তিনটি হলো :
{ قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلاَّ مَا شَاء اللّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَليمٌ }الأنعام১২৮ {خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ إِلاَّ مَا شَاء رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ }هود১০৭ {لَابِثِينَ فِيهَا أَحْقَاباً }النبأ২৩
. নামের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ইনি পাকভারত উপমহাদেশের একজন আলেম ছিলেন । এ ছাড়া তাঁর জীবনী সম্পর্কে জানার কোন সুযোগ হয়নি ।
. সূরাতুল হাজ্জ্ব , আয়াত ১৪
. দেখুন, মাজাল্লাতুল মানার ভলিউম ২২ খন্ড ৭ পৃষ্ঠা ৫৫৩, জুলকাদাহ ১৩৩৯ , আগষ্ট ১৯২১ ।
. তবে হতে পারে বিষয়টি সমালোচক যে ভাবে ধারণা করেছেন ইবনুল কাইয়্যেম ঠিক তেমনটি বোঝাতে চাননি । তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন মানুষের আবাসস্থল তিন ধরনের হবে যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে । বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘ আল্ওয়াবিল আস্সাইয়েব ফী আল্-কালিমিত্ ত্বায়্যিব, পৃষ্ঠা ২৪ , বৈরুত দারুল কিতাবুল আরাবী । আর যদি ইবনুল কাইয়্যেম (রা) এটাই মনে করেন যে, চিরস্থায়ী জাহান্নাম একদিন নিশ্বেঃষ হয়ে যাবে তা হলে প্রবন্ধকার এ মতের সাথে একমত পোষন করেন না ।
. তাঁর কিছু কিছু বই বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু হয়েছে , যেমন ‘আর্রূহ’ এ বইটি ‘রূহের রহস্য’ নামে অনুবাদ করা হয়েছে । অনুবাদকঃ লোকমান আহমাদ আমীমী । প্রকাশকঃ আহসান পাবলিকেশন । তাঁর যাদুল মায়াদ বইটির আংশিক কিছু অধ্যায় ও অনুবাদ করা হয়েছে যেমন, ইবাদত অধ্যায় থেকে ‘ আলস্নাহর রাসূল কি ভাবে নামায আদায় করতেন’ এ অংশটুকু অনুবাদ করে বই আকারে বের করেছেন জনাব আবদুস শহীদ নাসিম । বইটি ‘মুখতাসার যাদুল মায়াদ’ নামে সংÿÿপ্তাকারে আরবীতে প্রকাশ করেছেন শায়েখ আবু যায়েদ মিশর থেকে । এটি ‘আমাদের নবী ও তাঁর আদর্শ ’ এই শিরোনামে বাংলায় অনুবাদ করেছেন জনাব মুহাম্মাদ আবদুর রহমান । প্রকাশক: আবু আবদুলস্নাহ মুহাম্মাদ,